রিয়াল মাদ্রিদ দীর্ঘ ৯৭ দিন পর এসডি এইবারের বিপক্ষে মাঠে ফিরেছে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে। তবে ম্যাচ থেকে পাওয়া তিন পয়েন্টে মন ভরছে না কোচ জিনেদিন জিদানের। দ্বিতীয়ার্ধের পারফর্মেন্সের কারণে দলকে রীতিমতো ভর্ত্সনা করেছেন তিনি, জানাচ্ছে স্প্যানিশ ক্রীড়াদৈনিক মার্কা। এদিকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ফেরার দিনে ১-১ গোলে ড্র করেছে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের সঙ্গে।
পুনঃনির্মাণ কাজের কারণে নিজেদের মাঠ এস্তাদিও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলা বন্ধ থাকবে কিছুদিন। তবে অনুশীলন মাঠ এস্তাদিও আলফ্রেদো দি স্তেফানোয় শুরুটা নেহায়েত মন্দ হয়নি রিয়ালের। ৪, ৩০ আর ৩৭ মিনিটে যথাক্রমে টনি ক্রুস, সার্জিও রামোস আর মার্সেলোর গোলে প্রথমার্ধেই চালকের আসনে চলে যায় রিয়াল। তবে বিরতির পর থেকেই প্রথমার্ধের রিয়াল হয়ে পড়েছিল ফিকে, যার ফলে ম্যাচে ফেরার জোর চেষ্টাই চালাচ্ছিল এইবার। ৬০ মিনিটে দে ব্লাসিসের শট পেদ্রো বিগাসের গায়ে লেগে রিয়ালের জালে জড়ালে একটা গোল শোধও করে সফরকারী দলটি। এর আগে-পরে গোটা চারেক শট লক্ষ্যভ্রষ্ট কিংবা পোস্টে প্রতিহত না হলে গল্পটা ভিন্নও হতে পারতো। কোচ জিদানও চটেছেন এ কারণেই। মার্কা জানাচ্ছে, ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ড্রেসিং রুমে গিয়ে শিষ্যদের ওপর ক্ষোভও ঝেড়েছেন জিদান! চলতি মৌসুমে হঠাত্ই বিবর্ণ হয়ে পড়ার নজির বহুবার দেখিয়েছে রিয়াল। এ কারণেই হয়তো কোচ জিদান বাড়তি তত্পর। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দোষ দিলেন দলের আয়েশি মনোভাবকে, ‘দ্বিতীয়ার্ধে সমস্যার মুখেই পড়ে গিয়েছিলাম আমরা। আমি জানি না শারীরিক দিক থেকে কি-না, মনে হয়েছে যথাযথ মানে নেই আমরা। প্রথমার্ধের সবকিছু এতো ভালো ছিল, আর ফলাফলটা ৩-০ ছিল, এ কারণেই সম্ভবত দলে একটু আয়েশি ভাব চলে এসেছিল!’
তবে রিয়ালের হাতে সময় খুবই কম, আগামী বৃহস্পতিবার রাতেই যে ভ্যালেন্সিয়াকে আতিথ্য দিতে হবে! সময় আসলে লা লিগার কোনো দলেরই নেই, বার্সাই যেমন আজ রাতে খেলবে লেগানেসের বিপক্ষে!
এদিকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ফেরার ম্যাচে ড্র করে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলাকেই ফেলে দিয়েছে ধোঁয়াশায়। অবশ্য রবিবারের ম্যাচে ইকার মুনিয়াইনের গোলের পরপরই ডিয়েগো কস্তা সমতায় না ফেরালে হয়তো হার নিয়েই ফিরতে হতো ২০১৩-১৪ মৌসুমের লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের!
সংখ্যায় সংখ্যায়
রিয়াল আর
অ্যাটলেটিকো
৩ চলতি বছরে সার্জিও রামোসের গোল সংখ্যা। ২০২০-এ তার চেয়ে বেশি লিগ গোল নেই আর কোনো রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়ের!
১৯ ২০২০-এ সার্জিও রামোসের রিয়াল মাদ্রিদের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ওঠার কারণ এ সংখ্যাটি। রবিবার সন্ধ্যায় এসডি এইবার এর বিপক্ষে ৩৭ মিনিটে মার্সেলো গোল করার সঙ্গে সঙ্গে বনে যান চলতি মৌসুমে রিয়ালের ১৯তম গোলদাতা! ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে আর কোনো দলের এত খেলোয়াড় গোলের খাতায় নাম লেখাতে পারেননি চলতি মৌসুমে।
২০০ কোচ জিনেদিন জিদান রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে এদিন ২০০তম ম্যাচ পূর্ণ করেন। রিয়ালের ইতিহাসে মোটে তৃতীয় কোচ হিসেবে এই কৃতিত্ব দেখালেন তিনি। এ সময়ে ১৩২ জয়ের বিপরীতে ৪২টি ম্যাচে ড্র করেছে তার দল। জয়ের হার ৬৬ শতাংশ!
সর্বোচ্চ ম্যাচ কোচিংয়ের দিক থেকেও তৃতীয় অবস্থানে আছেন জিদান। ৬০৫ ম্যাচ নিয়ে কিংবদন্তি মিগুয়েল মুনোজ আছেন এর চূড়ায়, এরপরেই ২৪৬ ম্যাচ নিয়ে আছেন ভিসেন্তে দেল বস্ক।
১৩ বিলবাওয়ের সঙ্গে ড্রয়ের পর চলতি মৌসুমে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ড্রয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩-তে। ইতিহাসে কখনোই প্রতিযোগিতাটিতে এর চেয়ে বেশি ড্র করতে পারেনি রোহিব্ল্যাঙ্কোরা।
