আরিচা ঘাটের একাংশে যমুনার ভয়াবহ ভাঙনরোধে গৃহীত প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সীমাহীন গাফিলতি ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড চিহ্নিত স্থানে জিও ব্যাগ ফেলার প্রকল্প গ্রহণ করলেও নানা কারণে তা বিলম্বিত হওয়ায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। জায়গা-জমি ও স্থাপনা যমুনায় বিলীন হওয়ায় অনেকেই নিঃস্ব হচ্ছে।
জানা গেছে, নিহালপুর গ্রামের একাংশ ও আরিচার-১ থেকে ৫ নম্বর ঘাট হয়ে পুরাতন লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত এলাকা প্রায় তিন মাস যাবত্ যমুনার তীব্র ভাঙনের শিকার হচ্ছে। এ অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ড্রেজিংকৃত পলি দিয়ে ভাঙনরোধের প্রকল্প হাতে নেয়। মোটা টাকা গচ্চা গেলেও ড্রেজিংকৃত পলি দিয়ে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হয়নি। এরপর ভাঙন ঠেকানোর নতুন কৌশল হিসেবে প্রায় ১৩ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৩০ মে আওয়ামী লীগ দলীয় স্থানীয় এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয় এ কাজ উদ্বোধন করেন। কিন্তু অভিযোগ পাওয়া গেছে, নিহালপুরের অংশে জিও ব্যাগ ফেলা প্রায় শেষ হলেও আরিচা ঘাটে ব্যাগ ফেলায় নানা টালবাহানা চলছে। ক্ষতিগ্রস্তরা বাধ্য হয়ে নিজ অর্থে বালুভর্তি ব্যাগ ফেলে ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ভাঙনরোধে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যদিও তাতে তেমন কাজ হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৯ দশমিক ৫ গ্রেডের ২৭৫ কেজি বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলতে প্রতিটি জিও ব্যাগের মূল্য প্রায় ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়। এ প্রকল্পের মূল ঠিকাদারের পক্ষে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি জিও ব্যাগ ফেলার দায়িত্বে থাকার সুযোগে শর্তানুযায়ী জিও ব্যাগ না ফেলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার ও জায়গা মালিকদের ভুল বুঝিয়ে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারের নিযুক্ত লোকেরা প্রতিটি জিও ব্যাগ বাবদ ১০০ টাকা হাাতিয়ে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দিয়ে নদী পাড় বালু ভরাট করে ফেলছে। এদিকে ঠিকাদার কর্তৃক ফেলা জিও ব্যাগের বালুর গুণাগুণ ও ওজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শিবালয় মডেল ইউপি চেয়ারম্যান আলালউদ্দিন আলাল বলেন, ঠিকাদার যথাসময়ে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ না করে অবহেলা ও গাফিলতির পরিচয় দিচ্ছে। এ সুযোগে ভাঙন তীব্রতর হলেও তার লোকেরা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে কৌশলে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ শেখ জানান, ক্ষতিগ্রস্তরা ঠিকাদারের লোকদের টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে নির্ধারিত সংখ্যক জিও ব্যাগ যথাস্থানে না ফেলায় ভাঙন আরো তীব্র হচ্ছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড, মানিকগঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন বলেন, জিও ব্যাগ ফেলতে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই।
