চট্টগ্রামে চালের বাজার আবার অস্থির হয়ে উঠেছে। বস্তাপ্রতি ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা দাম বেড়েছে। পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, মিল মালিকদের কারসাজির কারণেই বেড়েছে চালের দাম। গত দুই সপ্তাহ ধরে চালের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। মিল মালিকরা বাজারে চাল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। তবে ধানের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় চালের দাম বেড়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারেও দাম বেড়ে গেছে।
চট্টগ্রামের চালের পাইকারি বাজার উত্তরবঙ্গের চালের ওপর নির্ভরশীল। চট্টগ্রামের বাজারে মোট চাহিদার অধিকাংশ চাল আসে নওগাঁ, দিনাজপুর, কুষ্টিয়াসহ কয়েকটি জায়গা থেকে। নগরীর পাহাড়তলী, চাক্তাই, বহদ্দারহাট, বন্দরটিলা, মোহরা ও আতুরার ডিপো এলাকায় চালের পাইকারি বাজার রয়েছে। এসব বাজারে প্রতিদিন শতাধিক গাড়ি চাল আনেন পাইকারি বিক্রেতারা। জানা গেছে, বাজারে চিকন চালের দামই বেশি বেড়েছে। বিক্রেতারা জানান, চিকন চাল বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেড়েছে। পাহাড়তলী পাইকারি বাজারে জিরাশাইল, মিনিকেট, পারি, পাইজাম ও বাসমতী চালের দাম বেশি বেড়েছে। বর্তমানে জিরাশাইল প্রতি বস্তা ২ হাজার ২০০ টাকা, মিনিকেট ২ হাজার ৫০০ টাকা, পারি ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং পাইজাম ও বাসমতী চাল প্রতি বস্তা ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বেড়েছে মোটা চালের দামও। পাহাড়তলী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, চাল সরবরাহের জন্য মিল মালিকদের সঙ্গে সরকারের চুক্তি রয়েছে। মিল মালিকরা বাজারে এখন চালের সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে গুদামে চাল মজুত করছে। মিল মালিকরা বাজারে ধানের মূল্য বৃদ্ধির কথা বলছে। এখন বোরো চাল বাজারে এসেছে। ফলে চালের কোনো সংকট নেই। মূলত উত্তরবঙ্গের মিল মালিকদের কারসাজির কারণে পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়ে গেছে।’
নগরীর চাক্তাই এলাকায় রয়েছে চালের বৃহত্ পাইকারি বাজার। এখান থেকে সড়ক পথে ছাড়াও চাক্তাই খাল দিয়ে নৌপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাল পরিবহন হয়ে থাকে। মক্কা রাইস এজেন্সির মালিক মো. রাসেল বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে থেকে চালের দাম বেড়েছে। এখন বাড়তি দামে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। মিল মালিকদের কারসাজির কারণে চালের দাম বেড়েছে।’
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং করে থাকে। চট্টগ্রাম কার্যালয়ের বাজার মনিটরিং অফিসার মো. সেলিম বলেন, ‘বাজারে ধানের দাম বেড়েছে। ধান প্রতি কেজি ২৬ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না। তাই চালের দামও বেড়েছে। চট্টগ্রামে খুচরা বাজারে চিকন চাল প্রতি কেজি ৫৪ থেকে ৫৬ টাকায়, স্বর্ণা, পারি-২৮, ২৯ ধানের চাল ৪৪ থেকে ৪৮ টাকায়, মোটা ইরি-৮, ১১, ১৬ ধানের চাল ৩৮ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করোনার কারণে বাজারে শিগগিরই চালের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।’
চালের বাজার অস্থিরতা প্রসঙ্গে ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন, ‘সরকার ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে মিল মালিক ও পাইকারি বিক্রেতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরো আন্তরিক ও কঠোর হতে হবে। সরকারের আন্তরিকতায় ঘাটতি রয়েছে।’
