এসএসসি পরীক্ষার ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং

আপডেট : ১৬ জুন ২০২০, ১৯:৪১

২০২১ সালের প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থীবৃন্দ,  তোমাদের জন্য ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ের ওপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তরসহ আলোচনা করা হলো। মনোযোগ দিয়ে দেখো।

১। জনাব সফিক একটি কোম্পানির শেয়ারে কিছু টাকা বিনিয়োগ করলেন। কোম্পানিটি প্রতিবছর ভালই মুনাফা অর্জন করে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কোম্পানিটি এই বছর পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। যার ফলে শেয়ারহোল্ডাররা তাদের কাঙ্খিত মুনাফা লাভে ব্যর্থ হয়। শেয়ার হোল্ডাররা যাতে নিয়মিত লভ্যাংশ পায়

এজন্য কোম্পানি পূর্বেই পদক্ষেপ নিয়েছিল।

ক. অর্থ আদান-প্রদানের দ্রুততম ও সরল প্রক্রিয়া কোনটি?

খ. বহিস্থ তহবিল বলতে কী বোঝায়?

গ. শেয়ারহোল্ডারদের নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানের জন্য কোম্পানি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. “জনাব সফিকের কোম্পানির উচিত অর্জিত মুনাফার সবটাই শেয়ার মালিকদের মধ্যে বণ্টন করা”। তুমি কি এই বক্তব্যের সাথে একমত? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

ক. অর্থ আদান-প্রদানের সবচেয়ে দ্রুততম ও সরল প্রক্রিয়া হলো স্বল্পমেয়াদি প্রক্রিয়া।

খ. ব্যবসায়ের বাইরের কোনো উত্স থেকে অর্থসংস্থান করা হলে তাকে বহিস্থ তহবিল বলে।

যেকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তহবিলের দুটি ভিন্ন উত্স থাকে। একটি মালিকপক্ষ অন্যটি ঋণদাতা, আর ঋণদাতা প্রদত্ত তহবিলকে বহিস্থ তহবিল বলা হয়। মেয়াদের ভিত্তিতে বহিস্থ তহবিলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উত্স হচ্ছে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উত্স।

গ. উদ্দীপকের কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানের জন্য লভ্যাংশ সমতাকরণ তহবিল গঠন করেছিল। কোনো কোম্পানি প্রতিবছরই শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করতে পারে না বা লভ্যাংশ প্রদান করলেও একই হারে লভ্যাংশ প্রদান করতে পারে না, তাই প্রতি বছর সামঞ্জস্যপূর্ণ লভ্যাংশ প্রদানের লক্ষ্যে মুনাফার একটি অংশ নিয়ে যে তহবিল গঠন করা হয় তাকে লভ্যাংশ সমতাকরণ তহবিল বলে। উদ্দীপকের সফিক সাহেব যে কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেছিলেন সেই কোম্পানিটি বিগত বছর গুলোতে ভালোই মুনাফা অর্জন করে আসছিল।

যার দরুন শেয়ার হোল্ডাররাও নিয়মিত লভ্যাংশ পেয়ে আসছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে কোম্পানিটি ভালো মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। তাই ২০১৩ সালে শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদানের ব্যাপারে সংশয় ছিল। কোম্পানির শেয়ার হোল্ডাররা কোম্পানি থেকে সাধারণত নিয়মিতভাবে লভ্যাংশ প্রত্যাশা করে। এই লভ্যাংশ প্রদানের সাথে কোম্পানির সুনাম জড়িত। কোনো বছর মুনাফার পরিমাণ কম হলে সে বছর লভ্যাংশ ঘোষণা করা সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় কোম্পানির সুনামকে  ক্ষুন্ন করতে পারে বলে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি বিগত দিনের যে বছরগুলোতে মুনাফা বেশি হয়েছিল সে বছরগুলোর নিট মুনাফার একটা অংশ আলাদা তহবিলে সরিয়ে রেখেছিল যাতে পরবর্তীতে যখন মুনাফা কম হবে তখন শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা প্রদান করতে পারে। এই তহবিলকেই লভ্যাংশ সমতাকরণ তহবিল বলা হয়।

ঘ. “জনাব সফিকের কোম্পানির উচিত অর্জিত মুনাফার সবটাই শেয়ার মালিকদের মধ্যে বণ্টন করা” এই বক্তব্যের সাথে আমি একমত নই। যৌথ মূলধনি কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের যতগুলো উত্স আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি উত্স হচ্ছে শেয়ার বা সাধারণ শেয়ার। এটি অভ্যন্তরীন তহবিলের একটি উত্স। এই শেয়ার বিক্রি করে কোম্পানি মূলধন সংগ্রহ করে। আর শেয়ার যারা ক্রয় করে তাদেরকে শেয়ার হোল্ডার বা শেয়ার মালিক বলা হয়। শেয়ার হোল্ডাররা কোম্পানির শেয়ারে অর্থ বিনিয়োগ করে (শেয়ার ক্রয় করে) কোম্পানির কাছে লভ্যাংশ প্রত্যাশা করে। স্বাভাবিকভাবে শেয়ার মালিকরা প্রত্যাশা করে কোম্পানি তাদের নিয়মিতভাবে লভ্যাংশ প্রদান করবে। তা না হলে শেয়ার মালিকরা তাদের শেয়ার সেকেন্ডারি মার্কেটে বিক্রি করে দিবে অর্থাত্ তাদের বিনিয়োগ অন্যত্র সরিয়ে ফেলবে। আর সফিকের কোম্পানিরও উচিত তাদের শেয়ার মালিকদের সন্তুষ্ট রাখা। কোম্পানির লাভ হলে

স্বাভাবিকভাবেই শেয়ার মালিকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। কিন্তু সব বছরই যে লাভ হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। যে বছর কোম্পানির শেয়ার মালিকদের বিগত বছর গুলোর মতো একই হারে লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষমতা থাকে না। আর শেয়ার মালিকদের লভ্যাংশ প্রদান করতে না পারলে কোম্পানির সুনাম ক্ষুন্ন হয়। তাই যে বছর লাভ হয় না বা কম হয় সে বছরও যাতে শেয়ার মালিকদের লভ্যাংশ প্রদান করা যায় সেজন্য কোম্পানি পূর্ব লভ্যাংশ সমতাকরণ তহবিল গঠন করে। যে বছরগুলোতে লাভ বেশি হয় সে বছর গুলোর নীট মুনাফার একটি অংশ কেটে রেখে লভ্যাংশ সমতাকরণ তহবিলে জমা রাখে। উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় কোম্পানির দীর্ঘ স্থায়িত্ব ও সুনামের স্বার্থেই সফিকের কোম্পানির উচিত সবটুকু মুনাফা বণ্টন না করে সঞ্চিতি তহবিল গঠন করা।