এবার নির্ধারিত সময়েও পাকছে না আম। এছাড়া আমে স্বাদ, ঘ্রাণ ও মিষ্টতা কম। ফলে ক্রেতা ও ভোক্তা পর্যায়েও আমের চাহিদাও কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ফল গবেষণা ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারাও। তাদের ভাষ্য, এবার প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমের ওপর নানামুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
রাজশাহীর পবার বড়গাছির আমচাষি সোলেমান সরদার, মোহনপুরের মোকিম বিশ্বাস, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহারাজপুরের এজাবুল হক জানান, এবার ১৫ মে গুটিসহ (আঁটি) দেশি আম পাড়ার নির্দেশনা দিলেও এসব আম পুষ্ট হতে ২ জুন পর্যন্ত সময় লেগেছে। প্রতি বছর যেভাবে পাকা আম গাছেই রঙিন হয়ে উঠত এবার তা কোথাও চোখে পড়েনি। এমনকি নির্ধারিত সময়ের ১৬ দিন পর আম পেড়ে সাত দিন ঘরে রাখলেও রঙ আসেনি। আম নরম হয়নি বা পাকা আমের ঘ্রাণ ছড়ায়নি। উপরন্তু গোপালভোগ, ন্যাংড়া ও ক্ষিরসাপাতের মতো অতি মিষ্টি আমের ভেতরে মিলছে পোকা।
এবার আম পাড়া ও আমের সহজাত স্বাদ-গন্ধহীনতা ছাড়াও জাত আমে পোকা থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিমউদ্দিন বলেন, এপ্রিল ও মে মাসে প্রয়োজনীয় ঝলমলে রৌদ্রতাপ আর কিছুটা শুষ্ক আবহাওয়ায় গাছে দ্রুত আম পেকে যায়। আমে রঙ ধরে। কিন্তু এ মধ্য-জুনেও ঘন ঘন বৃষ্টির ফলে আম পাকতে পারছে না। আমচাষিরা পুষ্ট আম গাছ থেকে নামানোর সাত দিন পরও আমে ঘ্রাণ মিলছে না। ভেতরের ফাইবারও নরম হচ্ছে না। তিনি বলেন, ক্ষিরসাপাত বা হিমসাগর ও ল্যাংড়া আমে পোকার আক্রমণ সাধারণত হয় না। কিন্তু এ বছর তাও ঘটেছে। তিনি বলেন, ঘন ঘন বৃষ্টি আর অধিক আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে আমের শরীর ভিজে থাকছে অধিকাংশ সময়। মাছি পোকা নামে যে পোকাটি আমকে আক্রমণ করে সেটি এ কারণেই সহজেই ছোটো ফুটা করে আমের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। ফলে প্রায় প্রতিটা আমের গায়ে কালো দাগ পাওয়া যাচ্ছে। আর আমের ফাইবার নষ্ট করে দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এ সমস্যা থেকে মুক্তির দুটি উপায়ের একটি হচ্ছে- আমকে ব্যাগ দিয়ে ঢেকে দেওয়া, যাতে পোকা ঢুকতে না পারে আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে- হট ওয়াটার প্ল্যান্টের মাধ্যমে আমকে ভাপ দিয়ে নরম করা। তবে প্রাকৃতিক বিড়ম্বনা এড়ানো কঠিন বলে মনে করেন তিনি।
