বাংলাদেশে রেকর্ড বিনিয়োগের এক বছরের মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) কমে গেছে ৫৬ শতাংশ। গেল ২০১৯ সালে মাত্র ১৬০ কোটি ডলার (১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) এফডিআই এসেছে দেশে। ২০১৮ সালে সাড়ে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এসেছিল। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২০’ এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে ২০১৮ সালে রেকর্ড বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছিল। ঐ বছর হঠাত্ ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এবার বিনিয়োগ কমার হারও বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে জাপান টোব্যাকো প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারে ঢাকা টোব্যাকো অধিগ্রহণ করায় হঠাত্ এফডিআই এত বেড়ে যায়।
আঙ্কটাড সতর্ক করে বলেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বেই বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহে ধস নামবে। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে এফডিআই ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। ২০২১ সালে আরো ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমতে পারে। তবে এসবই অনুমান নির্ভর হিসাব। করোনা পরিস্থিতিতে সারাবিশ্বে স্বাস্থ্য খাতে ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে এই ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে যে পরিমাণ এফডিআই এসেছে সেটি প্রধানত গার্মেন্টস কেন্দ্রিক। মূলত কোরিয়া, হংকং এবং চিন হতে বেশির ভাগ বিনিয়োগ আসে। ২০২০ সালে বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহে আরো পতনের পূর্বাভাস দিয়ে আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে গার্মেন্টস কারখানা কিছু সময় বন্ধ ছিল। তাছাড়া করোনা মহামারির প্রভাবে সারা বিশ্বে তৈরি পোশাকের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে এপ্রিলের পর থেকে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক নির্ভর হওয়ায় করোনার প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে সারাবিশ্বে যে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে তার পরিমাণ ১ দশমিক ৫৪ ট্রিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩১ লাখ কোটি টাকার সমান। ২০০৫ সালের পর এ বছর সর্বনিম্ন (১ লাখ কোটি ডলার) পর্যায়ে নেমে আসতে পারে বিনিয়োগ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা প্রভাবের আগে ২০১৯ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে এফডিআই কমলেও ভারতে বেড়েছে ২০ শতাংশ। ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রতিবেশী দেশটিতে, যার বড়ো অংশ জুড়ে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত। এ সময়ে পাকিস্তানে বিনিয়োগ বেড়েছে ২৮ শতাংশ। দেশটিতে চিন ও যুক্তরাজ্যের বড়ো বিনিয়োগ এসেছে জ্বালানি, আর্থিক খাত ও টেক্সটাইল শিল্পে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফডিআই প্রবাহে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ২০১৯ সালে শীর্ষে রয়েছে কম্বোডিয়া। দেশটিতে এফডিআই বেড়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশ। ২০১৯ সালে বিনিয়োগ হয়েছে ৩৭১ কোটি ডলার। এছাড়া মোজাম্বিক, ইথিওপিয়া এবং মিয়ানমারে আগের বছরের তুলনায় বিনিয়োগ কমলেও দেশগুলোতে এফডিআই গেছে ২০০ কোটি ডলারের বেশি। অর্থাত্ এলডিসিভুক্ত হলেও বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারছে না।
