যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে নিরস্ত্র অবস্থায় কৃষ্ণাঙ্গ যুবক ফ্লয়েড হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও সারা বিশ্বে ব্যাপক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পুলিশ বাহিনী সংস্কারের এক নির্বাহী আদেশে সই করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৃষ্ণাঙ্গ বা অন্যদের সঙ্গে পুলিশ কেমন আচরণ করবে তার একটি দিকনির্দেশনা দেওয়া আছে ঐ আদেশে। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্ণবাদ সম্পর্কে পুলিশ সদস্যদের সচেতন করতে প্রশিক্ষণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি এতে যুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিলটিতে সই করেন ট্রাম্প।
বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশ বাহিনীকে বিলুপ্ত কিংবা অর্থসংস্থান বন্ধের যে দাবি জানানো হয়েছিল তা প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই বিলের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করেছেন তিনি। বিলটিতে প্রতিটি পুলিশের আচরণের ডাটাবেজ তৈরীর কথা বলা হয়েছে। অপরাধীদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও ভালো কিংবা মন্দ আচরণের ডাটা এন্ট্রি হবে তাতে। বিলে সই করার আগে ট্রাম্প বলেন, তিনি কয়েকজন আফ্রিকান পরিবারের সাথে কথা বলেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরো বলেন, পুলিশ বাহিনী দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করে দেশকে মানুষের বসবাস যোগ্য রাখেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পক্ষান্তরে যারা বিক্ষোভকালে লুটপাট করেছে তাদের নিন্দা জানানো উচিত।
মিনিয়াপোলিসে পুলিশের হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড নিহত হলে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ থেকে পুলিশের বরাদ্দ বাতিলের এবং বাহিনীটি বিলোপ করে দেওয়ার দাবি ওঠে। সেই আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করে ‘আইনশৃঙ্খলা’ প্রতিষ্ঠায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। একপর্যায়ে বিক্ষোভের তীব্রতায় কংগ্রেসে পুলিশ সংস্কারের বিল তোলেন ডেমোক্র্যাটরা। কয়েকটি রাজ্য ও শহর কর্তৃপক্ষ পুলিশের শক্তি প্রয়োগে লাগাম টানে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা চাপে পড়েই ‘তুলনামূলক নরম মাত্রায়’ পুলিশ সংস্কারের নির্বাহী আদেশে সই করতে যাচ্ছেন রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, নির্বাহী আদেশটি পুলিশের শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বশেষ মানদন্ড মেনে চলায় বাহিনীর সদস্যদের উত্সাহিত করবে। খারাপ রেকর্ড রয়েছে এমন সদস্যদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরো সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ রয়েছে আদেশে। এ ছাড়া মাদকাসক্ত ও গৃহহীনরা কোনো অপরাধে জড়ালে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশের পাশাপাশি সামাজ কর্মীদেরও তাতে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা-ধর্ম-বর্ণের প্রতিনিধিত্বকারী লোকজনের মতামত সংগ্রহ করেছেন বলে হোয়াইট হাউস উল্লেখ করেছে। সে আলোকে তিনি পুলিশ বাহিনীর আচরণকে সুশাসনের পরিপূরক করতে আগ্রহী।
