কিস্তির সময় বাড়লেও জরিমানা মাফ হবে না

আপডেট : ১৬ জুন ২০২০, ২৩:০৩

করোনার কারণে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টেনে তুলতে ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধের সময় কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক নির্দেশনায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জানিয়েছে, ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর। আগে এই সময়সীমা ছিল জুন পর্যন্ত। এর মানে এই সময়ে কেউ কিস্তি না দিলে তাকে খেলাপি করা যাবে না।

কাযত, অধিকাংশ ব্যাংক এই নির্দেশনা পুরোপুরি মানছে না। কেউ না দিলে খেলাপি করছে না ঠিকই, কিন্তু চাপ দিচ্ছে কিস্তি পরিশোধের। বাধ্য করা হচ্ছে এই বলে যে, পরে দিলে জরিমানা গুণতে হবে। সুদের ওপর সুদ আরোপিত হবে। অথচ সিঙ্গেল ডিজিট সুদ হার কার্যকর থাকায় দণ্ডসুদ আরোপ মানেই জবরদস্তি। অর্থমন্ত্রী নিজেও বলেছেন, সুদের হার কোনোভাবেই ৯ শতাংশের বেশি চার্জ করা যাবে না। কিন্তু কে শোনে কার কথা। একজন ভুক্তভোগীই জানেন তার ব্যথা। এই ক্রান্তিকালেও যেসব উদ্যোক্তা বেতনভাতা অব্যাহত রাখছেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করছেন তাদের কি পুরস্কার নেই? জরিমানা দেওয়ার চেয়ে অনেকেই মনে করছেন কষ্ট হলেও কিস্তি পরিশোধ করে দেই। অথচ, সরকার সুদ মওকুফ খাতে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই টাকা করোনাকালীন সময়ে সুদখাতে ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হবে। তা নীতিমালা করতে হয়তো কিছু দেরি হচ্ছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের চাপ দিয়ে কিস্তির অর্থ নিয়ে নিচ্ছে। ভয় দেখাচ্ছে জরিমানার। খোদ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোই একই কাজ করছে। ফলে, গ্রাহকরা অবাকই হচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, এটা এক ধরনের জালিয়াতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আলোচ্য সুবিধা চলাকালীন            সময়ে ঋণ বা বিনিয়োগের ওপর সুদ বা মুনাফার হিসাবায়নের ক্ষেত্রে এতদসংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা বলবত্ থাকবে। তবে, উক্ত সময়ে ঋণ বা বিনিয়োগের উপর কোনোরূপ দণ্ড সুদ বা অতিরিক্ত ফি (যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন) আরোপ করা যাবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ব্যাংকগুলো এখনো নানা চার্জ আরোপ করায় সুদের হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশেই থাকছে। কিস্তি পরিশোধের সময় শুক্র-শনিবার হলে পরবর্তী কর্মদিবসে কেউ কিস্তি জমা দিলে জরিমানা ধার্য্য করা হচ্ছে। এছাড়াও সরকারের কাছ থেকে নেওয়া নানা সুবিধার পরও ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ওপর নমনীয় হচ্ছে না। সূত্রমতে, অনেক ব্যাংকেরই পরিচালকদের নির্ধারিত শেয়ার নেই। কোনো কোনো ব্যাংকের ঋণ অগ্রিম অনুপাতের হিসাবও সঠিক নয়। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে হিসাবনিকাশ নিজেদের মতো সাজানোর ক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলো কম যায় না। সম্প্রতি একটি ব্যাংক পরিচালন মুনাফার তথ্যও একই প্রক্রিয়া ওলটপালট করে দিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে নানা সুযোগ দেওয়া হলেও বড়ো গ্রাহকদের বিশেষত যাদের সঙ্গে ব্যাংকের পরিচালক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ওঠাবসা থাকে, তারা ছাড়া অন্যরা কোনো সুবিধাই পায় না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি, ভোক্তা ঋণগ্রহীতারাও এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ এই শ্রেণির গ্রাহকদের কাছ থেকেই ব্যাংক শতভাগ অর্থ আদায় করে থাকে। বরং ব্যাংকের নানা লুক্কায়িত চার্জে এসব গ্রাহক নাকাল হয়েও কিস্তির টাকা পরিশোধ করে দিচ্ছে। সূত্রমতে, করোনাকালীন সময়ে মানুষের বেঁচে থাকাই আসল। সেখানে ব্যাংকগুলোর যদি ক্ষুদ্র—মাঝারি ও ভোক্তা ঋণগ্রহীতাদের কিছুটা সুবিধা না দেয়, তাহলে কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে ব্যাংকারদের একটি সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় একটি বিষয় উল্লেখ থাকায় সুযোগটি কোনো কোনো ব্যাংক নিতে পারে। নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো গ্রাহকের সুবিধা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা না অনুভূত হলে পূর্বনির্ধারিত পরিশোধসূচি অনুযায়ী অথবা ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ/বিনিয়োগের অর্থ সমন্বয় করা যাবে। মূলত এ কারণেও ব্যাংকগুলো সুযোগ নিয়ে নিচ্ছে।