অশ্রদ্ধার চর্চা করে শিল্প হয় না

আপডেট : ১৭ জুন ২০২০, ২০:১৯

নতুন একটি গান প্রকাশ করলেন কণ্ঠশিল্পী রবি চৌধুরী। ‘জাতীয় বেয়াদব’ শিরোনামের এই গানটি তার শিরোনাম ও গানের বিষয় নিয়ে বেশ আলোচনা তৈরি করেছে। এছাড়া এই করোনাক্রান্ত সময়ে কিভাবে কাটছে শিল্পীর সময়। তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক

কেমন আছেন? বেশকিছু সমসাময়িক ও সমাজ সচেতনতার গান প্রকাশ করলেন। অনেকদিন পর আবারও যেন সরব হলেন। সব মিলিয়ে নিজের কাজের খবরগুলো শুনতে চাই—

কেমন আছি, এ প্রশ্নের আর জবাব দিতে চাই না এখন। আমরা সবাই এক রকম আছি। বেঁচে থাকার চেষ্টাতে ভালো আছি। তবে অনেকদিন পর বলতে নিজের ঘরে সুরক্ষায় থাকার এই সময়ে নিজেকে পরিবারকে সময় দেওয়ার একটা উপলব্ধি হয়েছে। নিজের মতো করে গান বাঁধারও একটা উপলব্ধি হয়েছে। বেশকিছু গান রিলিজ করেছি। এর ভেতরে বেশ ক’টি গান দারুণভাবে সমাদৃতও হয়েছে। সেদিক দিয়ে নতুন এক জীবনে ফেরা বলতে পারেন।

‘জাতীয় বেয়াদব’ গানটি কেন এ সময় করলেন। ঠিক যখন কোনো এক গায়কের কিছু কথাকে নিয়ে মিডিয়ার অতিপ্রচার ও ঔদ্ধত্বের কথা শোনা যাচ্ছে। তবে কী তাকে উদ্দেশ্য করেই—

মোটেই ওই একটা বেয়াদবকে নিয়ে করা নয়। এটা শিল্পী হিসেবে নিজস্ব দায়বোধ থেকে করা। অনেকদিন ধরেই শুনে আসছি দেখে আসছি এই অশ্রদ্ধার কালচার। অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা নেই। আত্ম-অহঙ্কারী এইসব গায়কদের কেউ কিছু বলারও নেই। বিষয়টি পীড়াদায়ক। সেই ভাবনা থেকেই একটি গান করা। এটা আমার একটা মেসেজও বলতে পারেন।

কিন্তু আপনার কথামতো তথাকথিত বেয়াদবরা ভাবতেই পারে, প্রচলিত ভাইরালের সঙ্গে থাকার জন্য এ ধরনের বিষয় বেছে নিলেন—

হা হা হা। দেখুন, ক্যারিয়ারের দুই যুগ হয়ে গেছে। এ ধরনের হঠাত্ জনপ্রিয় হয়ে হুড়মুড়িয়ে ক্যাসেট বিক্রি হওয়া গায়ক-গায়িকাদের অনেককেই দেখেছি। আমি অন্তত ১৫ থেকে ২০ জনের নাম বলতে পারবো, যারা তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়ে আবার হারিয়ে গেছে! কেন বলেন তো? শিষ্টাচারের অভাব। পারিবারিক শিক্ষার অভাব। সমাজ থেকে এরা কোনো শিক্ষা নেয় না। অশ্রদ্ধার চর্চা করে শিল্প হয় না। অথচ এগুলোর যে প্রয়োজন আছে সেটাই ওরা জানি না। তাই সময়ের স্রোতে কোনোদিন ছিলাম না। আমি এ গানে শুধু একজন বেয়াদবের কথা কিন্তু বলিনি। অনেক বিষয়ই রয়েছে। যেমন এখনকার অনেক গায়কই নিজেদের গান স্টেজে গায় না। অন্যের গান নিয়েই চলে অথচ মূল শিল্পীর নাম বলেন না। এমন অনেক অশ্রদ্ধার চর্চা চলছে সমাজে।

এই করোনা আক্রান্ত সময়ে কী করলেন যা অন্য সময়ে করেননি?

একটা বড় কাজ হয়েছে—তা হলো আমার ইউটিউব চ্যানেলটা প্রতিষ্ঠা করেছি। এখন থেকে নিয়মিত গান পাবেন আমার শ্রোতারা। এছাড়া  সমাজ সচেতনতা নিয়ে আরও কিছু কাজের পরিকল্পনা রয়েছে।          দেখা যাক।