মুক্তির অপেক্ষায়

আপডেট : ১৭ জুন ২০২০, ২০:৩৩

চলচ্চিত্র ও নাটক দুই মাধ্যমেই সফল অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। অসাধারণ অভিনয়ের জন্য অর্জনের ঝুলিতে পুরেছেন দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘দেবী’। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে নতুন দুই সিনেমা। এই গুণী অভিনেতার খবর জানাচ্ছেন অজেয় চৌধুরী

 

রুপালি পর্দায় অভিনয়ের একযুগ সময় পার করছেন চঞ্চল চৌধুরী। শুরু থেকেই সিনেমাতে অভিনয়ের ব্যাপারে ভীষণ চুজি তিনি। গল্প এবং চরিত্র পছন্দ না হলে যত বড় প্রযোজনা সংস্থাই হোক কিংবা নির্মাতা যিনিই হোন না কেন তিনি তাতে অভিনয়ের জন্য সম্মত হন না। যে কারণে চঞ্চল চৌধুরী এখন পর্যন্ত যতগুলো সিনেমায় অভিনয় করেছেন প্রত্যেকটি সিনেমাই হয়েছে দর্শকপ্রিয়। প্রথমবার গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘মনপুরা’ সিনেমার জন্য এবং দ্বিতীয়বার অমিতাভ রেজা চৌধুরী পরিচালিত ‘আয়নাবাজি’ সিনেমাতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এরইমধ্যে শেষ করেছেন আরো দুটি নতুন সিনেমার কাজ। একটি গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘পাপ পূণ্য’ এবং অন্যটি মেজবাউর রহমান সুমনের প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’। ‘পাপ পূণ্য’ সিনেমাটি একটি ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রামের জীবনের গল্প; যেখানে চঞ্চল চৌধুরীকে একজন চেয়ারম্যানের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাবে। অন্যদিকে ‘হাওয়া’ সিনেমা মূলত সমুদ্রপাড়ের জেলেদের সংগ্রামী জীবনের গল্প। যেখানে চঞ্চল চৌধুরীকে প্রধান মাঝির চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে। ‘পাপ পূণ্য’ সিনেমার কাজ চঞ্চল চৌধুরী টানা এক মাস শুটিং করেছেন চাঁদপুরে। অন্যদিকে ‘হাওয়া’ সিনেমার জন্য কাজ করেছেন তিনি সমুদ্রপাড়ে টানা ৪৫ দিন। ‘হাওয়া’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় তিনি পরিবার থেকে টানা ৪৫ দিন বলা যায় বিচ্ছিন্নই ছিলেন। এই দুই সিনেমাতে অভিনয় প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরী বলেন,  বাংলাদেশের সিনেমার এখন যে ধারা চলছে সেই ধারাকে আরো শক্তিশালী করবে আমার অভিনীত ‘পাপ পূণ্য’ ও ‘হাওয়া’ সিনেমা—এটা আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি। একটি কথা না বললেই নয়, তা হলো আমি দীর্ঘ একযুগ ধরে সিনেমাতে অভিনয় করছি। গল্প এবং চরিত্র ভালো না লাগলে আমি কোনোভাবেই কারো অনুরোধে কোনো সিনেমাতে অভিনয় করি না, করবও না। আমি যদি গল্প পড়ে বুঝতে পারি যে এই সিনেমা মুক্তি পেলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না সেই সিনেমায় আমি অভিনয় করি না। ‘পাপ পূণ্য’ সিনেমায় শ্রদ্ধেয় গিয়াস উদ্দিন সেলিমের লেখা, নির্দেশনা এবং নির্মাণে আবারো তার জাদুর ছোঁয়া পাবেন দর্শক। অন্যদিকে সুমনের এটি প্রথম সিনেমা। কিন্তু সুমন অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে সিনেমাটি তার সর্বোচ্চ মেধা দিয়ে নির্মাণ করেছেন। সমুদ্রপাড়ের মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের গল্প নিয়ে এই ধরনের সিনেমা এত যত্ন করে এর আগে নির্মিত হয়নি বলেই আমার ধারণা। আমার বিশ্বাস, দুটি সিনেমাই মুক্তি পেলে দর্শকের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলবে। সর্বশেষ তিনটি ঈদ নাটকে কাজ করেছিলেন তিনি। করোনায় সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে শুটিং বন্ধ রেখেছেন। করোনার ক্রান্তিকাল পার হলে ‘পাপ পূণ্য’ ও ‘হাওয়া’ নামের ছবি দুটির মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত হবে।