লিগের খসড়া সূচীতে ক্লাবগুলোর ক্ষোভ

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:১৩

প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের ফিকশ্চার পেয়ে বিভিন্ন ক্লাব ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে। লিগ কমিটির যে ফিকশ্চার ঘোষণা করেছে তাতে এবার লিগ শেষ হবে ১০ আগস্ট। এত লম্বা সময় লিগ হলে স্বাভাবিক ভাবেই এবারো লিগের খেলা হবে বৃষ্টি মৌসুমে। অথচ বৃষ্টি মৌসুম হতে বাঁচার জন্য প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের খেলা শীত মৌসুমে আনা হয়েছিল। কিন্তু যে কারণে শীত মৌসুমে লিগ নেওয়া হয়েছিল সেই আশার গুড়ে বালি পড়তে যাচ্ছে। ঘোষিত ফিকশ্চার অনুযায়ী খেলা হলে ঘুরে-ফিরে আবার সেই বৃষ্টি মৌসুমেই লিগের খেলা হতে যাচ্ছে। ক্লাবগুলোর আশঙ্কা ব্যয় বেড়ে যাবে। ক্লাব কর্মকর্তারা বলছেন খরচ জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ক্লাবগুলো মনে করছে ১০ আগস্ট লিগ নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে না। আজ একারণে তো কাল আরেকটি কারণে বন্ধ থাকে। বিদেশি খেলোয়াড়দের বেতন ক্যাম্পের খরচও বেড়ে যাবে।

বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘খুব হতাশ হয়েছি এই ফিকশ্চার দেখে। সভায় যে পরিকল্পনা ছিল তার কিছুই ফুটে ওঠেনি এই ফিকশ্চারে। লিগ কমিটির সভায় আমাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল এপ্রিল-মে’র মধ্যে মৌসুম শেষ হবে। বর্ষা এড়ানোর জন্যই এরকম সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন লিগের ফিকশ্চারে দেখছি খেলা শেষ হবে আগস্টে। তাহলে কী লাভ হলো। ভরা বর্ষার মধ্যেই আমাদের খেলতে হবে।’ সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের এমডি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এটা খুবই আত্মঘাতী ফিকশ্চার হয়ে গেল। বর্ষার মধ্যে খেলতে হবে। এসময় ঢাকায় খেলা যায় না, তা ছাড়া বিদেশিদের জন্য আমাদের তিন কোটি টাকা বাড়তি লাগবে। তাহলে আরও আগে কেন লিগ শুরু করলাম না। তিনি বলেন, ‘বর্ষা এড়ানোর জন্যই আমরা সবাই ঐকমত্য প্রকাশ করেছিলাম শীত মৌসুম শুরু এবং বর্ষার আগে শেষ করব।’ 

সূচি দেখে বিস্মিত হচ্ছি। লিগ টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আগস্ট পর্যন্ত। অথচ বাফুফে জানিয়েছিল মে মাসের মধ্যে এটা শেষ করবে। আগে তারা জানিয়েছিল লিগের ম্যাচ হবে সপ্তাহে ৩ দিন। মাঝখানে চলবে স্বাধীনতা কাপের খেলা। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাধীনতা কাপও ফেডারেশন কাপের পরপর করে ফেলেছে। তাহলে এখন কেন সপ্তাহে ৩ দিন করে খেলা হবে? ব্রাদার্সের ফুটবল ম্যানেজার আমের খান বললেন, ‘ক্লাবগুলো বিদেশি খেলোয়াড় এবং কোচদের সঙ্গে চুক্তি করে দ্বিতীয় রেজিস্ট্রেশন উইন্ডোর আগ পর্যন্ত। যাতে দ্বিতীয় উইন্ডোতে খেলোয়াড় বদলানো যায়। সে মতেই আমরা চুক্তি করেছিলাম ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। অথচ খসড়া সূচিতে দ্বিতীয় উইন্ডো খুলবে মে মাসে। আর যেহেতু মৌসুম শেষ হওয়ার কথা ছিল বর্ষা মৌসুমের আগে, মে মাসে, আমরা সেভাবেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তি করেছি। এখন এটা আগস্টে শেষ হলে আর্থিক যে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তা কী ভেবে দেখেছে বাফুফে। লম্বা লিগের খরচ কে দেবে।’ ক্লাবগুলোকে ১ জানুয়ারি খসড়া ফিকশ্চার পাঠানো হয়েছে। কোনো মতামত থাকলে তা জানাতে হবে ৪ জানুয়ারির মধ্যে। ক্লাব কি সিদ্ধান্ত নেবে তা নিয়ে বসবে ক্লাব কর্মকর্তারা।