বদলে যাচ্ছে চেয়ারম্যান মেয়র পদবি!

আপডেট : ১৭ জুন ২০২০, ২৩:০০

স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিদ্যমান পদবি বদলে যাচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের পদবি বাংলায় রূপান্তর করা হচ্ছে। আগামী দিনে মেয়র বা চেয়ারম্যান নাম থাকছে না। প্রস্তাবিত রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন-২০২০-এ বিধান রাখার প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) থেকে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন সংক্রান্ত বিধান আলাদা করে এ আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খসড়া আইনটি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে রাজনৈতিক দল ও সচেতন নাগরিকদের কাছ থেকে মতামত চেয়েছে ইসি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘আমরা খসড়া আইন সবার মতামতের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল        ছাড়াও দেশের যে কোনো নাগরিক এ আইনের ওপর মতামত দিতে পারবেন। মতামত পাওয়ার পর আইনে সংযোজন-বিয়োজনের বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে।’

আরপিওর অনুচ্ছেদ ৯০এ থেকে ৯০আই এ রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আরপিও থেকে ওই অনুচ্ছেদ রহিত করার প্রস্তাব করেছে খসড়া ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন, ২০২০’ আইনে। খসড়া আইনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি উপজেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল কর্তৃক প্রার্থিতা মনোনয়নের বিষয়টি রাখা হয়েছে। বর্তমানে আরপিওতে শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে কিছু উল্লেখ ছিল না।

প্রস্তাবিত রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন-২০২০’র খসড়ায় ইউনিয়ন পরিষদকে পল্লি পরিষদ, পৌরসভাকে নগর সভা ও সিটি করপোরেশনকে মহানগর সভা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রধান, ভাইস চেয়ারম্যানকে উপপ্রধান; সিটি করপোরেশনের মেয়রকে মহানগর সভা আধিকারিক বা মহানগরপতি এবং পৌরসভার মেয়রকে পুরাধ্যক্ষ বা নগরপতি; সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কাউন্সিলরকে সদস্য বা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ওয়ার্ডকে মহল্লা এবং ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে এলাকা শব্দের দ্বারা প্রতিস্থাপন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন দলের নিবন্ধন পেতে অন্তত দুটি নির্বাচনে একটি করে আসনে জয় পাওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্বাচনের একটি আসনে জয় পেলেই নিবন্ধনের জন্য বিবেচিত হয়। এছাড়া রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রাখার বিধান শিথিল করা হয়েছে খসড়া আইনে। বিদ্যমান আইনে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রাখার শর্ত রয়েছে। খসড়া আইনে কত বছরের মধ্যে এ শর্ত পূরণ করতে হবে সেই বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

খসড়া আইনে নিবন্ধনের শর্তাবলিতে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বা ছাত্র এবং আর্থিক, বাণিজ্যিক বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বা সংস্থার কর্মচারী বা শ্রমিকদের সমন্বয়ে বা অন্য কোনো পেশার সদস্যগণের সমন্বয়ে অঙ্গ সংগঠন থাকবে না। তবে সকল প্রকার গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে এবং ব্যক্তি হিসাবে, বিদ্যমান আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।

খসড়া আইন প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সকল আইনের মৌলিক বিধানাবলি অক্ষুণ্ন রেখে ইংরেজির পরিবর্তে বাংলা ভাষায় প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আরপিওতে এই আইন না রেখে কমিশনের রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন, ২০২০ রূপে বাংলায় খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলা প্রণয়নকালে ইংরেজি এবং বিদেশি শব্দের পরিবর্তে অধিকতর গ্রহণযোগ্য বাংলা পরিভাষা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে www.ecs.gov.bd  আইনের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মতামত চাওয়া হয়েছে। ৭ জুলাই পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিবের ইমেইল [email protected]  ঠিকানায় পাঠানো যাবে।