কলাপাড়ায় অবস্থিত তৃতীয় পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নির্মিত একটি আবাসনের পানির ট্যাংক ভূমির ওপরে উঠে এসেছে। উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের মেরাউ পাড়ায় অবস্থিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত ১ নম্বর আবাসনে রবিবার গভীর রাতে হঠাত্ ট্যাংকটি ভূমির ওপরে উঠে আসে বলে আবাসনে কর্মরত শ্রমিকদের কাছ থেকে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক সোহাগ ফরাজী বলেন, রাত দেড়টার দিকে ট্যাংকের চারপাশের পানিতে বুদবুদ করতে থাকে। জানতে পেরে আমরা অনেকেই সেখানে যাই। পরে হঠাত্ করে ট্যাংকটি মাটির ওপর উঠে আসে।
এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কারো ধারণা মাটির নিচে জমে থাকা গ্যাসের কারণে এটি হয়েছে, কেউ আবার নির্মাণ প্রক্রিয়ায় ‘ভেজাল’ ছিল বলে ধারণা করছে। তবে এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজে যথেষ্ট স্বচ্ছতা নেই বলেই অধিকাংশ বাসিন্দা মনে করছেন। স্থানীয়দের মতে, পায়রা বন্দরে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের বসবাসের জন্য সরকার এ আবাসনের ব্যবস্থা করেছে কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, বালু, রড ও সিমেন্ট দিয়ে কোনোমতে দায়সারাভাবে কাজ করছে। সরকার একটি ঘর তৈরির জন্য যে বাজেট দিয়েছে তার সিংহভাগই অসাধু ব্যবসায়ীদের পকেটে যাচ্ছে।
আবাসনের সার্ভেয়ার মো. শামীম জানান, হঠাত্ পানির ট্যাংকটি মাটির ওপরে উঠে আসায় আমরাও বিচলিত রয়েছি। ঠিক কি কারণে এটি হয়েছে তা সঠিক তদন্ত ছাড়া বলা যাচ্ছে না। তবে ট্যাংকের নিচের পানির স্তর ওপরে উঠে আসায়, অতিরিক্ত গ্যাসের চাপ বা বালুর প্রেসারের কারণে এমনটি হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস কোম্পানির লজিস্টিক অ্যাডমিন মো. ওয়ালিউল্লাহ বলেন, বিষয়টি আমরা পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা তদন্ত করে সঠিক কারণ বের করবেন।
