লকডাউনেও ঠেকছে না সংক্রমণ

আপডেট : ১৮ জুন ২০২০, ০০:৫২

রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউন শুরুর পরও করোনার সংক্রমণ থামানো যাচ্ছে না। প্রতিদিনই সেখানে গড়ে পাঁচ জন করে আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছেন। লকডাউনের আগে পূর্ব রাজাবাজারে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩১ জন। লকডাউন শুরুর পর গত সাত দিনের প্রথম চার দিনে ২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সাত দিনে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন ১৩৭ জন। পরের তিন দিনের রিপোর্ট এখনো হাতে পাননি এলাকার বাসিন্দারা।

রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ইত্তেফাককে বলেন, আমরা এখনো পুরো সাত দিনের রিপোর্ট হাতে পাইনি। তবে প্রথম চার-পাঁচ দিনের রিপোর্ট পেয়েছি। সেখানে গড়ে পাঁচ জন করে শনাক্ত হচ্ছেন। আক্রান্ত বেশি হওয়ার কারণে আমরা ঐখানে নমুনা সংগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছি।

পূর্ব রাজাবাজারে ব্র্যাকের একটি বুথ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঐ বুথের দায়িত্বে থাকা ডা. ফারহানা রহমান ইত্তেফাককে বলেন, লকডাউনের এ সাত দিনে আমরা ১৩৭ জনের নমুনা নিয়েছি। রিপোর্টগুলো আমাদের কাছে আসে না। এটা সরাসরি যারা নমুনা দেন তাদের কাছে চলে যায়। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা আমরা জানি না।

লকডাউন শুরুর পরও কেন এত সংক্রমণ? এমন প্রশ্নের জবাবে একজন জনস্বাস্থ্যবিদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘লকডাউন শুরুর পর কেউ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে কি-না সেটা তো নিশ্চিত নয়। অনেকেরই হয়তো আগে থেকে উপসর্গ ছিল। তারা এতদিন পরীক্ষা করাননি। এখন পরীক্ষা করার পর ধরা পড়ছে। লকডাউনের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে ভেতরে যদি সাধারণ মানুষ অবাধে ঘুরে বেড়ায় তাহলে হয়তো ভিন্ন কথা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরান ইত্তেফাককে বলেন, ‘লকডাউন শুরুর পর প্রথম তিন দিনে ১৫ জন শনাক্ত রোগী ধরা পড়েছে, সেটা ওরা আমাকে জানিয়েছে। পরেরগুলো আর জানি না। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এগুলো সব আগের রোগী। এখন পরীক্ষা করানোতে ধরা পড়ছে।’

ভেতরের অবস্থা কী জানতে চাইলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলেন, ‘বিনা কারণে মানুষ বিরক্ত করছে। তবে সবচেয়ে বেশ সমস্যা হয়েছে ভুয়া ফোন কলের কারণে। যেমন ধরেন রাত ২টার সময় একটা ফোন এলো প্যারাসিটামল ওষুধ লাগবে। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা ওষুধ কিনে ঐ বিল্ডিংয়ের নিচে গিয়ে ফোন দেওয়ার পর দেখা যায় নম্বরটি বন্ধ। বিল্ডিংয়ের লোকজন জানালেন, ঐ নাম বা নম্বরের কোনো ব্যক্তি এখানে থাকে না। আসলে কিছু জামায়াতের লোকজন আছে, তারা চায় না লকডাউন কার্যকর হোক। তারাই এই বিরক্ত করছে। এছাড়া কিছু মানুষ অসচেতন ভাবেও বিরক্ত করছেন। যেমন রাত ২টার সময় ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী চাচ্ছেন। এটা তো জরুরি কোনো জিনিস না। তাহলে এত রাতে কেন বিরক্ত করছে। তবে এখন লকডাউন ভেঙে বাইরে যাওয়ার প্রবণতা কমছে। যাদের দরকার নেই তারা এখন আর গেটে ভিড় করেন না।’