সরকার মাসুদের একগুচ্ছ কবিতা

আপডেট : ১৮ জুন ২০২০, ১৮:১৫

অরণ্যভ্রমণ থেকে ফিরে

অনেক বিচিত্র ভূ-দৃশ্যে স্থাপন করেছি নিজেকে, আবার করবো, এরকম ভাবতে ভাবতে পেরিয়ে যাচ্ছি প্রিয় সমতলভূমির নৈঃশব্দ, কানে আসছে সবুজ অর্কেস্ট্রা।
 
আমি চিন্তা করি ওই লোকদের কথা যারা
জঙ্গলে প্রবেশপথ চিনে নিতে চায়,
আমি বলি তুমি যেদিক দিয়েই যাবে সেটাই তোমার অরণ্যের প্রবেশপথ।
তা না হলে ওই মবিল রঙ পানির ডোবা দেখতে পাবে না, যেখান থেকে ধোয়া ওঠে অনবরত !
এবং গভীর পাতা ও শেকড়ের গুহা থেকে যে রহস্য পিছলে পড়ছে শ্যাওলাধরা পাথরে, তার মানে খুঁজতে যাওয়া সত্যিই বোকামি।
এখন তা খুঁজিও না আমি।
তবে ওই সবুজ অর্কেস্ট্রেরা, ওই সহজবোধ্য টিলায় বাতাস যখন মুলমুল করে ঢুকে পড়ে আমার গ্রীষ্মের কপাটখোলা রাতে,
মাথাটা শীতল হয়, হৃতস্পন্দনের মৃদু শব্দে
বুঝে নেই মায়াখাচা আর ওই ছায়াপথ!


গ্রীষ্মের বনভূমি

কতো কিছু দেখা যায় এখানে !
বনভূমি কত খেলা দেখায় দৃশ্যপ্রেমী আমাকে
জঙ্গলও খোলস পাল্টায় সাপের মতো;
ঋতুবৈচিত্র্যের রঙ কখন যে বদলে যায় বোঝাই যায় না।
কিন্তু যখন বুঝি, ততক্ষণে গ্রীষ্মকাল আমাকে টেনে নিয়েছে তার হা- এর ভেতর,
মোলায়েমভাবে।

এখানে এখন সূর্যতপ্ত ফুল
রোদে ভাজা ঘাস
আলোছায়াস্পৃষ্ট পাতা
এখন, আপাতত, বন্ধ হলো আমার ছবিকল্পনার খাতা।

আলোসবুজ অরণ্যের ভেতর দিকে কতো প্রজাপতি, স্বল্পবাক বনঘুঘু......
আর আমি লক্ষ্য করেছি ঘনগ্রীষ্মকালে
জলফড়িং বসে থাকে পানির খুব কাছে স্প্রিংলাগানো শীর্ণ ডালে ডালে!  
        

অভাবনীয়

প্রিয় তোমাদের আরো বেশি মনে রাখার জন্য দূরে চলে যাই;
আমার সাথে সাথে যায় একটা তারা     
যাকে আমি স্বপ্নে অশেষ আমাজনের ভেতর দিয়ে ছুটে  যেতে দেখেছি সন্ধ্যায়!  

প্রিয় তোমাদের কিছুটা ভুলে থাকার জন্য নিরাপদ দূরত্বে বাসা ভাড়া নেই;
আমার সাথে থাকে এক ত্রিকালদর্শী দাড়কাক যাকে আমি স্বপ্নে রক্তবমি করতে দেখেছি একটা বন্ধ স্টুডিওর ভেতর!     

প্রশংসা

প্রশংসা একটা ঝাপসা আয়না
তার মধ্যে নিজের চেহারা
ভালো করে ফোটে না।
যার প্রশংসা করছো, সামনাসামনি,
তার কাজের ভেতরের ছোটবড় ছিদ্রগুলো
সে মুহূর্তে একদম অন্ধকার
ওইসব ছিদ্রপথে আলো আসে না
কারণ প্রশংসা একটা ঝাপসা আয়না।

যিনি প্রশংসা করছেন, মুখোমুখি,
তার মুগ্ধতা আড়াল করেছে সূক্ষ্ম সুতা, সুবিচারবোধ
আর সাধুবাদের সামান্য পিছনে, জেনে রাখো,
আছে প্রশংসিতের ট্যারা চোখ, উঁচু-নিচু দাত!

প্রশংসা একপ্রকার শাদা আলো
কৃতী মানুষের মুখগুলো দেখা যাবে,
শুধু মুখ, মুখের শ্বেতিগুলো নয়।
প্রশংসার মুহূর্তে হিমরাত্রির শ্বাসকষ্টে
ভোগে আমাদের সবুজ বিনয়।     


আগামীকাল

গ্রামের গভীরে অনেক রাতে গাড়ি চালিয়ে আসবে কেউ
হেড লাইটের আলোয় দেখা যাবে পুঞ্জ পুঞ্জ বন ঝোপ,
বন্ধ দরজার ওপরে দেয়া × চিহ্ন
গভীর ঘুমের ভেতরেও
শাশ্বতকে চাইবে কেউ মনেপ্রাণে
পিপাসা ঝুলে থাকবে আমাদের প্রশ্নবোধক মাথার পেছনে....
গর্ত থেকে অন্ধকার উঠে আসবে ক্রলিং করে করে
নাটকীয়তার রঙ মিশে যাবে
টলটলে খালের পানিতে....   

লেখা পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]