লিভারপুলের ৩০ বছরের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার অপেক্ষা শেষ হতে পারত আগামী সোমবারই। তবে সেক্ষেত্রে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারতে হতো আর্সেনালের কাছে। কিন্তু পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা গত বুধবার রাতে সে সুযোগটা দেননি অল রেডদের। বরং ঘটনাবহুল ম্যাচে আর্সেনালকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে জয়ী প্রত্যাবর্তন সেরেছেন সার্জিও আগুয়েরোরা। এর ফলে শিরোপা উত্সব অন্তত এক ম্যাচ দিবস পিছিয়ে গেল লিভারপুলের।
মোহামেদ সালাহদের অপেক্ষা বাড়ানোর ‘কারিগর’ অবশ্য ডেভিড লুইজ। ২৪ মিনিটে গোড়ালির চোট নিয়ে মাঠের বাইরে যাওয়া পাবলো মারির বদলে মাঠে নামেন এই ব্রাজিল ডিফেন্ডার। প্রথমার্ধ্বের প্রায় পুরোটা সময়ে স্বাভাবিক খেললেও প্রথম ভুলটা করেন যোগ করা সময়ে। কেভিন ডি ব্রুইনের দূর থেকে বাড়ান বলটি তার পাশ দিয়ে গিয়েই পড়ে ফাঁকায় দাঁড়ান রাহিম স্টার্লিংয়ের পায়ে। জোড়াল শটে গোল করেন ইংলিশ এই ফরোয়ার্ড।
পিছিয়ে পড়ে বিরতিতে যাওয়া আর্সেনাল লুইজেরই আরেক ভুলে হজম করে দ্বিতীয় গোল। রিয়াদ মাহরেজকে বক্সে ফাউল করে পেনাল্টি তো হজম করেনই, লাল কার্ড দেখে দলকেও পরিণত করেন ১০ জনের দলে। পেনাল্টি থেকে ডি ব্রুইনের গোলের পর আর দ্বিতীয়ার্ধ্বের যোগ করা সময়ে ফিল ফোডেনের লক্ষ্যভেদের মাঝে আর পাত্তাই পায়নি আর্সেনাল। তবুও ব্যবধানটা আর বাড়েনি আর্সেনাল গোলরক্ষক বার্ন্ড লেনোর দৃঢ়তায়। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ গোলমুখে সিটির ১২ শটের বিপরীতে ‘মোটে’ তিনটি গোল তারই সাক্ষ্য দেয়।
ম্যাচে একই খেলোয়াড়ের রক্ষণাত্মক ভুলে গোল, পেনাল্টি হজম, লাল কার্ড। এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা মেলে না। প্রিমিয়ার লিগেই এমন দৃশ্য সামনে এলো ২০১৫ সালের পরে এই প্রথম। এমন বিস্মরণযোগ্য পারফরম্যান্সের পর দায়টা অকপটে নিজের কাঁধে নিয়ে নেন লুইজ।
ব্রাজিলীয়টি বলেন, ‘আমার দোষেই ম্যাচটা হেরেছে দল। দল ভালোই খেলেছিল, এমনকি আমি উঠে আসার পর ১০ জন নিয়েও! দলের সবাই মাঠে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাকই করেছিলেন।’
সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা এই জয়ে খুশি হলেও জানালেন দর্শকহীনতার কারণে ফিকে হয়ে গেছে জয়ের আনন্দ। তিনি বলেন, ‘শুরুতে দল কিছুটা নড়বড়ে ছিল। কিন্তু এরপর আমরা বেশ ভালো ম্যাচই খেলেছি, সুযোগ সৃষ্টি করেছি, গোল করেছি। প্রথম ম্যাচ হিসেবে ব্যাপারটা ভালোই। কিন্তু দর্শকদের ছাড়া মাঠে আসাটা মোটেও আগের মতো নয়, সেটা সম্ভবত আপনিও বুঝবেন। আশা করছি আমরা খুব তাড়াতাড়িই এ মুহূর্ত থেকে বেরোতে পারব যেন দর্শকরা মাঠে ফিরতে পারেন।’
সংখ্যায় সংখ্যায়
৩ মিকেল আর্তেতার অধীনে ১১ ম্যাচেই তিন লাল কার্ড দেখেছে আর্সেনাল। যা সাবেক কোচ উনাই এমেরির অধীনে ৫১টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ খেলে দেখেছিল দলটি।
৪ চলতি মৌসুমে লুইজের হজম করা পেনাল্টি সংখ্যা। চলতি মৌসুমে এর চেয়ে বেশি পেনাল্টি হজম করেননি আর কোনো ডিফেন্ডারই। উল্লেখ্য, চেলসিতে শেষ তিন মৌসুমে একটিও পেনাল্টি হজম করেননি লুইজ।
৫ রক্ষণাত্মক ভুলে গোল হজম, পেনাল্টি হজম আর লাল কার্ড দেখা, প্রিমিয়ার লিগে এই তিনের সমন্বয় সর্বশেষ দেখা মিলেছিল পাঁচ বছর আগে। ওয়েস্ট হ্যাম ডিফেন্ডার কার্ল জেনকিনসন বোর্নমাউথের বিপক্ষে ২০১৫ সালের আগস্টে গড়েছিলেন এ ‘কীর্তি’। বদলি হিসেবে নেমে এমন কিছু আরো বিরল। শীর্ষ পাঁচ লিগ মিলিয়েই এমন ‘কীর্তি’ সর্বশেষ দেখা গেছে ২০১১ সালে। ইন্টার মিলান ডিফেন্ডার ইভান করদোবা ব্রেসিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে এ ‘কীর্তি’ গড়েছিলেন।
