জমি না দেয়ার কারণে রাস্তা নির্মাণ বন্ধ থাকায় বরগুনার তিনটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। গ্রামগুলো হলো: বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুরি ইউনিয়নের ছোটগৌরীচন্না, গিলাতলী ও গুদিঘাটা। ওই তিনটি গ্রাম থেকে মহাসড়কে ওঠার রাস্তা না থাকায় প্রসূতি, মুমূর্ষু রোগী এবং প্রতিবন্ধীদের কাঁধে বয়ে এনে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। মাত্র ১০০ ফুট রাস্তার অভাবে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ ঘুরে মহাসড়কে আসতে হয়। রাস্তার দাবিতে রবিবার মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই তিন গ্রামের মানুষ নিজেদের টাকায় এবং স্বেচ্ছাশ্রমে বরগুনা-বেতাগী-বাকেরগঞ্জ মহাসড়কের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য গুদিঘাটা গ্রামের খুচনিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার থেকে নতুন রাস্তা নির্মাণ শুরু করে। মহাসড়ক পর্যন্ত পৌঁছতে রাস্তাটির মোট দৈর্ঘ্য ৮৫০ মিটার। চার মিটার চওড়া রাস্তাটি মহাসড়ক থেকে মাত্র ৪০ মিটার দূরে এসে বাধাপ্রাপ্ত হয়। গলাচিপা গ্রামের নাসির মৃধা ও তার আত্মীয়রা তাদের জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে বাধা দেয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন রাস্তার সামনে তারা ঘর নির্মাণ ও পুকুর খনন করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এ ব্যাপারে নাসির মৃধা বলেন, রাস্তাটি আমাদের জমির উপর দিয়ে গেলে অনেক ক্ষতি হবে। বরং ওই রাস্তা একটু ঘুরিয়ে আমাদের জমির দক্ষিণ পাশ দিয়ে নেওয়া হলে সব দিক রক্ষা হয়।
ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের ১নং ইউনিটের আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও খুচনিচড়া বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ পনু মিয়া জানান, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করেছি। একটুর জন্য রাস্তাটি পূর্ণাঙ্গতা পাচ্ছে না। এলাকার সবাই কিছু কিছু স্বার্থ ত্যাগ না করলে কোনো উন্নয়নই সম্ভব নয়। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ আটকে আছে। একই কথা জানালেন ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম, মোঃ মোখলেছুর রহমান দিলু, মোঃ সেলিমসহ আরো অনেকে। তাদের দাবি রাস্তাটি সম্পূর্ণ নির্মাণ হলে মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হবে। ফলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের যোগাযোগের সমস্যা লাঘব হবে।
ফুলঝুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, রাস্তাটির ব্যাপারে আপোষ মীমাংসার জন্য বসেছিলাম। কিন্তু জমির মালিকের অনমনীয়তার জন্য মহাসড়কের সঙ্গে রাস্তার সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি।
