রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের আমবাগানে গত বছরের ন্যায় এবারও প্রজননের প্রয়োজনে ফিরতে শুরু করেছে শামুকখোল পাখি। আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও তাদের স্থায়ী আবাসন গড়ার ব্যবস্থা করেনি স্থানীয় প্রশাসন। ফলে অনেকটাই বেকায়দায় পড়েছেন এলাকার বাগানের মালিকরা। তারা চিন্তায় পড়েছেন পাখি উড়িয়ে দেবেন, নাকি থাকতে দেবেন। কারণ বাগানে পাখির আগমন হওয়ায় আমের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তবে পাখি আসতে শুরু করায় উত্সুক পাখিপ্রেমীদের ভিড় বাড়ছে।
তথ্য মতে, গত বছর ঐ আমবাগানে পাখির আগমন নিয়ে ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন প্রত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সে সময় আমের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় বাগানের মালিকরা পাখি তাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এ নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজর কাড়ে। বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আরজি জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রজ্ঞা পারমিতা রায়।
আদালত স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ এক আদেশ দেন। কেন ঐ এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে না—রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। এলাকাটি অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলে বাগানের মালিক ও বাগানের ইজারাদারের ক্ষতির সম্ভাব্য পরিমাণ নিরূপণ করে ৪০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে রাজশাহীর জেলা প্রশাসককে পাখিদের স্থায়ী আবাস গড়ে তোলার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এ জন্য জমি অধিগ্রহণ ও গাছের দাম নির্ধারণ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এ বছর আবারও সেই অতিথি পাখিরা এসে দুইটি গাছ দখল করেছে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই তারা বাসা তৈরির প্রস্তুতি নেবে। এ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন আমগাছের মালিকেরা।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, স্থায়ীভাবে সেখানে শামুকখোল পাখিদের অভয়ারণ্য করতে হলে অন্তত ১০ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। ৩৮টি আমগাছের দাম নির্ধারণ করতে হবে। এর জন্য ২ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দিতে হবে। দুই ধরনের প্রস্তাবই কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়; কিন্ত এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার থেকে বরাদ্দ পেলে তারা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
