ঝিনাইগাতীতে বিদ্যুত্ সংযোগের অনুমতি না পেয়ে শতাধিক কৃষক পরিবারের সেচ পাম্প মালিক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। চলতি বোরো মৌসুমের পূর্বেই এ উপজেলা থেকে প্রায় দু’শ’ গভীর নলকূপ (সেচ পাম্প) মালিক বিদ্যুত্ সংযোগের জন্য আবেদন করেন বিএডিসিতে। কিন্তু এখনো তারা বিদ্যুত্ সংযোগের অনুমতি পায়নি। এদিকে বোরো মৌসুমের উপযুক্ত সময় অতিবাহিত হচ্ছে। অথচ বিদ্যুত্ সংযোগের অভাবে সেচ পাম্প চালু ও তাদের জমিতে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। গভীর নলকূপের বিদ্যুত্ সংযোগ পেতে প্রথমে বিএডিসি ও পরে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতির প্রয়োজন হয়। ঝিনাইগাতী উপজেলার নাচন মহুরী গ্রামের আবেদনকারী সেচ পাম্প মালিক কাবুল হোসেন, দড়িকালিনগর গ্রামের মতিউর রহমান, ফরিদ হোসেন, কোনাগাঁও গ্রামের আব্দুর রহমান, পানবর গ্রামের আনোয়ার হোসেন, মোজাফফর, কাংশা গ্রামের ইদ্রিস আলীসহ আরও বেশ কয়েকজন সেচপাম্প মালিক বলেন, তারা ইতোপূর্বে উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট থেকে সংযোগের আবেদন গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে উপজেলা চেয়ারম্যান সেচ কমিটির সভাপতির পদ থেকে বাদ হওয়ায় তাদেরকে বর্তমান সেচ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট থেকে নতুন করে অনুমতি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এ হিসেবে গত দুইমাস পূর্বে তারা বিএডিসিতে আবেদন করেছেন। বিএডিসি সরেজমিনে তদন্ত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রতিবেদন দাখিলের পর তা অনুমোদন দেওয়ার কথা। কিন্তু গত দুইমাসেও তারা সে অনুমতি পায়নি। ফলে আবেদনকারী শতাধিক গভীর নলকূপ মালিকসহ শত-শত কৃষক পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বিএডিসি’র ঝিনাইগাতী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠ কর্মকর্তা ওবায়দুল হক বলেন, নির্বাচনের কারণে কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। তবে আবেদনগুলো সরেজমিন প্রতিবেদনসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট জমা দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ছাড়পত্র দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদ বলেন, আবেদনগুলো বিএডিসি’র প্রকৌশলীর হাতে রয়েছে। আমার হাতে এখনো পৌঁছেনি। তবে হাতে পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
