বাইসাইকেলে চলিবার অভ্যাস চালু হউক

আপডেট : ১৮ জুন ২০২০, ২১:৫৯

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সংবাদ হইতে জানা গিয়াছে, করোনা ভাইরাসজনিত লকডাউনের কারণে ঢাকায় বাইসাইকেল বিক্রয় বাড়িয়াছে দ্বিগুণেরও অধিক। যেইহেতু গণপরিবহনে আসন সীমিত এবং গণপরিবহন ব্যবহারে মানুষের মুখোমুখি হইতে হয়, তাই অনেকেই কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য বাইসাইকেলকেই বাছিয়া লইতেছেন। তবে এই লকডাউন উঠিয়া যাইবার পরও যদি বাইসাইকেল ব্যবহারের প্রবণতা টিকিয়া থাকে, তাহা বহুবিধ সুবিধা আনিয়া দিবে। বাইসাইকেল একদিকে সাশ্রয়ী অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলিতে বাইসাইকেল খুবই জনপ্রিয়। সেই সকল দেশে দেখা যায়, বাড়িতে দুই-তিনটি আরামদায়ক গাড়ি থাকিতেও দুই-চার-দশ মাইল পথ পাড়ি দিতে তাহারা বাইসাইকেল ব্যবহার করিয়া থাকেন। ইহা তাহাদের কালচারে প্রবেশ করিয়াছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ইহাতে শরীরস্বাস্থ্যও বেশ চাঙ্গা থাকে। শুধু ব্যক্তির নহে, রাষ্ট্রের জন্যও ইহার ব্যবহার বিশেষ ভূমিকা পালন করিয়া থাকে। বলা বাহুল্য, বর্তমান চীনের যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, তাহাতে বাইসাইকেল ব্যবহার কিছুটা হইলেও ভূমিকা রাখিয়াছে।

পাশাপাশি ইহাও ঠিক, একটি শহরে বাইসাইকেল জনপ্রিয় করিতে সঠিক পরিবেশ ও অবকাঠামো থাকিতে হয়। শহরের বিভিন্ন সড়কে সাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট লেন থাকিতে হয়। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করিতে হয় যে একজন সাইকেল আরোহী রাতের বেলায় কর্মস্থল হইতে নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরিতে পারিবেন। দুর্ভাগ্যক্রমে ঢাকায় তাহা নাই। অধিকন্তু অলিগলির রাস্তায় খানাখন্দও সাইকেলে উত্সাহিত করিবার ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা। তবে সরকার নানাবিধ অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়াছে। মানুষের মধ্যে সাইকেল চালনার প্রবণতা বৃদ্ধি পাইলে নিশ্চয়ই সরকার বিশেষ নজর দিবে। আবার সরকার নজর দিলেও বাইসাইকেল ব্যবহার বৃদ্ধি পাইবে।

ইতিমধ্যে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে একটি সাইকেল লেন তৈরি হইয়াছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও একটি লেন করিবার পরিকল্পনা চলিতেছে। এই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সাইকেল ব্যবহারে উত্সাহিত করা যাইতে পারে। সর্বোপরি মনে রাখিতে হইবে, যাহার সামর্থ্য নাই তিনিই বাইসাইকেল ব্যবহার করিবেন—এই ধারণা হইতে আমাদের বাহির হইয়া আসিতে হইবে। অন্য একটি রিপোর্টে বলা হইয়াছে, কেবল করোনা ভাইরাসের কারণেই নহে, গত পাঁচ বত্সর ধরিয়া সাইকেল বিক্রয় বাড়িয়াছে তিন গুণ। গত বত্সরে বাংলাদেশ হইতে সাড়ে ৭ লক্ষ বাইসাইকেল রপ্তানিও হইয়াছে। নিঃসন্দেহে ইহা একটি শুভ লক্ষণ। করোনা ভাইরাস আমাদের সার্বিক জীবনব্যবস্থায় প্রভাব ফেলিয়াছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানাইয়াছে, পরিস্থিতি দুই-তিন বত্সরেও স্বাভাবিক নাও হইতে পারে। এই নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যেই যতটা ভালো কিছু আমাদের সামনে আসিবে, আমরা যেন তাহা গ্রহণ করিতে কার্পণ্য না করি। মনে রাখিতে হইবে, মানুষ যথেষ্টসংখ্যক সাইকেল ব্যবহার করিতে শুরু করিলে যানবাহন ব্যবস্থাপনায় খানিকটা হইলেও চাপ কমিবে।