বেনজেমা-অ্যাসেন্সিওর ‘ফেরা’

ব্যবধান কমাল রিয়াল

আপডেট : ১৯ জুন ২০২০, ২১:১৭

গোল খরায় ভুগছিলেন করিম বেনজেমা আর হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর প্রায় এক মৌসুম মাঠের বাইরে ছিলেন মার্কো অ্যাসেনসিও। বৃহস্পতিবার রাতে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে দুই জনেই ফিরলেন, ভিন্ন-ভিন্ন ভাবে। তাতে রিয়াল মাদ্রিদও ৩-০ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধানটা কমিয়ে দুইয়ে নামিয়ে এনেছে।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রস্থানের পর থেকেই রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের নেতা বেনজেমা। সেই বেনজেমাই কি না গত ২৭ নভেম্বর চ্যামিপয়ন্স লিগে পিএসজির বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর থেকে একের বেশি গোল কোনো ম্যাচেই করতে পারেননি! সে খরা ফরাসি ফরোয়ার্ড কাটান ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে। নিজেদের মাঠে এস্তাদিও আলফ্রেদো দি স্তেফানোয় ম্যাচের ৬০ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ৮৬ মিনিটে সফরকারীদের কফিনে ঠোকেন শেষ পেরেকটিও। দলের প্রধান ফরোয়ার্ডের গোলে ফেরাটা নিঃসন্দেহে যে কোনো কোচের জন্যে সুসংবাদ। কোচ জিনেদিন জিদানও আনন্দিত এ কারণে। বললেন, ‘কারিমের দুটো গোলের জন্যেই আমি বেশ আনন্দিত।’

দুটো গোলে আরো কিছু কীর্তি গড়েছেন বেনজেমা। রিয়ালের হয়ে ২৪৩ গোল নিয়ে ফেরেঙ্ক পুসকাসকে ছাড়িয়ে রিয়াল ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলদাতাও বনে গেছেন তিনি। এছাড়াও প্রথমবার লক্ষ্যভেদে ক্যারিয়ারে দশমবারের মতো মৌসুমে ২০ গোলের কীর্তি গড়েন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।  তবে বেনজেমার চেয়েও এদিন বেশি আলো কেড়েছেন দীর্ঘ চোট থেকে মাঠে ফেরা অ্যাসেনসিও। শনিবার রাতে মাঠে নেমে প্রথম স্পর্শেই যে পেয়েছিলেন গোলের দেখা! এরপর বেনজেমার শেষ গোলটাতেও ছিল তার প্রত্যক্ষ অবদান। তবে কোচ জিদান তাকে ফিরে পেয়েই সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘এতগুলো মাস সে মাঠের বাইরে ছিল। তার মাঠে ফেরাটাই খুশি হওয়ার কারণ হওয়ার জন্যে যথেষ্ট ছিল। প্রথম স্পর্শেই গোল পাওয়াটা তার গুণটা জানান দেয়। এছাড়াও ম্যাচে সে দারুণভাবেই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিল।’ তবে এমন ম্যাচের শুরুটায় ভ্যালেন্সিয়াই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। ২০ মিনিটে ম্যাক্সি গোমেসের পাস থেকে রদ্রিগো লক্ষ্যভেদও করেছিলেন। তবে ভিএআরে দেখা যায় যোগান দেওয়া বলটি আয়ত্তে আনার সময়ে অফসাইডে ছিলেন তিনি। ফলে সে যাত্রায় রক্ষা মেলে রিয়ালের।

ভ্যালেন্সিয়া কোচ আলবার্ত সেলাদেস অবশ্য মনে করছেন সেখানেই ম্যাচটা হেরেছে তার দল! বললেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা সুযোগ পেয়েছিলাম। এরপর আগে-পরে রদ্রিগো পোস্টে বল লাগাল, ফেরান তরেসও! তবে বাতিল হওয়া গোলটাকে আমার মনে হয়েছে অন্যায্য। ম্যাচের ভাগ্যটাই গড়ে দিয়েছিল সিদ্ধান্তটা।’ এই জয়ের ফলে রিয়াল ২৯ ম্যাচে ৬২ পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান পাঁচ থেকে দুইয়ে নামিয়ে এনেছে। গত রাতে সেভিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসিরা জিতে থাকলে অবশ্য ব্যবধানটা আবারও পাঁচে চলে যাবে। অন্যদিকে সমানসংখ্যক ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়া ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে আছে তালিকার অষ্টম স্থানে।