পশ্চিমের জেলাগুলোতে সব ধরনের কৃষিপণ্যের দাম বাড়ায় চাষিরা খুশি। চলতি রবি মৌসুমে যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় সব ধরনের ফসলের ফলন ভালো হয়েছে বলে চাষিরা জানায়। পশ্চিমের ছয় জেলায় ৩৪ হাজার ২২০ হেক্টরে পেঁয়াজ চাষ হয়। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মহিষাডাঙ্গা গ্রামের চাষি নির্মল বিশ্বাস জানান, এবার চার বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি ৮০-৮৫ মণ ফলন হয়। মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি শামসুল ইসলাম জানান, তাদের এলাকায় নতুন পেঁয়াজ ওঠার পর প্রতি মণ ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। আর গম বিক্রি হয় প্রতি মণ ১ হাজার টাকার ওপরে। এবার পশ্চিমের ছয় জেলায় ৬ হাজার ৬৯৯ হেক্টরে রসুনের চাষ হয়েছে। এ অঞ্চলে ৩৮ হাজার হেক্টরে গম চাষ হয়। চলতি মৌসুমে ৬৫ হাজার ৪১০ হেক্টরে মসুর ডাল চাষ হয়েছে। পশ্চিমের জেলাগুলোতে ভুট্টা চাষ বাড়ছে। এবার ছয় জেলায় আলু চাষ হয়েছে ৯ হাজার ৫৫ হেক্টরে। যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর গ্রামের চাষি ইজাজুল ইসলাম বলেন, এবার আলুর দাম ভালো। ছয় জেলায় বোরো চাষ হয়েছে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৫ হেক্টরে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক পার্থ প্রতীম সাহা জানান, এবার এ অঞ্চলে সব ধরনের ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। দাম ভালো পেয়ে চাষি খুশি।
হাটেই ধান বিক্রি করছেন কৃষক
রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে চলতি বোরো মৌসুমে বাজার ও হাটগুলোতে বোরো ধানের দাম বেশি পাওয়ার কারণে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দিচ্ছে না লটারিতে নির্বাচিত কৃষকরা। ত্রিমোহনী হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল হালিম, করিম উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ফলন ও দাম ভালো পাচ্ছি। গুদামে ধান দিতে গেলে নানা সমস্যা ও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। মিলার বকুল হাজী বলেন, দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা হাটে ধান বিক্রি করে অনেক খুশি। রাণীনগর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম লিটন বলেন, সরকারের সংগ্রহ মূল্য থেকে বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হচ্ছে না। তবে আমরা নির্বাচিত কৃষকদের গুদামে ধান দিতে উদ্বুদ্ধ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।
