চট্টগ্রামে করোনা রোগের চিকিত্সায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিত্সা সরঞ্জাম প্রদান করা হচ্ছে। তবে সমন্বয়হীনতার অভাবে এসব সামগ্রী করোনা চিকিত্সায় কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। জানা গেছে, এরই মধ্যে চট্টগ্রামের টিকে গ্রুপ, এস আলম, সিকম, পিএইচপি গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপসহ বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ করোনা রোগীদের চিকিত্সায় আইসোলেশন সেন্টার তৈরি, হাসপাতালে চিকিত্সাসামগ্রী প্রদান করেছে। আবুল খায়ের গ্রুপ বিভিন্ন হাসপাতালে বিনা মূল্যে অক্সিজেন সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে। টিকে গ্রুপের পক্ষ থেকে ভেন্টিলেটরের মতো দামি চিকিত্সাসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের কাছে ২০টি ভেন্টিলেটর হস্তান্তর করেন গ্রুপের পরিচালক (মার্কেটিং) মো. মোফাচ্ছেল হক। টিকে গ্রুপের দেওয়া ২০টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে ১০টি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, তিনটি জেনারেল হাসপাতাল, তিনটি চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল, দুইটি সার্জিস্কোপ হাসপাতাল এবং দুইটি পার্কভিউ হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে। এসব ভেন্টিলেটর চট্টগ্রামে ডেডিকেটেড হাসপাতালে চালু হলে করোনা রোগীদের চিকিত্সা দেওয়া আরো সহজ হবে।
এদিকে করোনা চিকিত্সায় চট্টগ্রামের বড়ো বড়ো প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলেও চিকিত্সা সরঞ্জাম বিতরণ নিয়ে রয়েছে সমন্বয়হীনতা। সিকম গ্রুপের মালিকানাধীন একটি কমিউনিটি সেন্টারকে করোনা রোগীদের চিকিত্সায় ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির জন্য দেওয়া হলেও তা আজও চালু করা যায়নি। আবুল খায়ের গ্রুপ রোগীদের জন্য বিনা মূল্যে অক্সিজেন দেওয়ার ঘোষণা দিলেও চট্টগ্রামে অক্সিজেনের অভাবে প্রায়ই রোগী মারা যাচ্ছে। সর্বশেষ টিকে গ্রুপের পক্ষ থেকে ভেন্টিলেটর দেওয়া হলেও কবে থেকে চালু হবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে প্রথম এক জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে সর্বমোট করোনা রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৯১১ জন। পর্যাপ্ত আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের অভাব এবং অক্সিজেন সংকটের কারণে চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।
