প্রশাসনের কঠোর অবস্থান দাবি
হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না করোনা ভাইরাস সংক্রমণ। এ ভাইরাস থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীকে নিরাপদ রাখার জন্য নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও কিছুই কাজে আসছে না। করোনা ভাইরাস রোধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক লকডাউনের ঘোষণা দিলেও তা মানছে না এলাকাবাসী। অপরদিকে রেড জোন এলাকা ঘোষণা করা হলেও কার্যত লকডাউন কোথায় কোথায় দেওয়া হবে তা এখনো স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করতে পারেনি। এদিকে আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গত শুক্রবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০০ বলে সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে কিট সংকটে নারায়ণগঞ্জে নমুনা সংগ্রহ দুই দিন যাবত্ হচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জের একমাত্র করোনা হাসপাতালটির আইসিইউ কবে স্থাপিত হবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। আইসিইউর যেসব যন্ত্রপাতি এসেছে তা কার্যকর নয় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান দ্রুত চিকিত্সাব্যবস্থা উন্নতকরণসহ ফতুল্লার প্রো-একটিভ হাসপাতাল ও বন্দরের আল বারাক হাসপাতালটি করোনা রোগী চিকিত্সার দাবি জানিয়েছে। অপর সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে করছেন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাব বিনা পয়সায় ডাক্তারদের জন্য গেস্ট হাউজ ছেড়ে দিয়েছে। তবে এর বিপরীতে সরকার থেকে বিরাট অঙ্কের অর্থ তুলে তা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। হাসপাতালের অবসরে যাওয়া একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এখনো হাসপাতাল সুপারের পিএ হিসাবে দায়িত্ব পালনের নামে হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন কায়দায় অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সেলিম ওসমান এমপি জানান, তিনিও এমন অভিযোগ পেয়েছেন। তাছাড়া হাসপাতালের চিকিত্সাসামগ্রী বাইরে নেওয়ার সময় তিনি হাতেনাতে ধরে হাসপাতালে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করলেও কে বা কারা সেই সিসি ক্যামেরাগুলো অকেজো করে রেখেছে।
হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদের সভা প্রায় ৬ মাস যাবত্ ডাকা হয় না বলে সেলিম ওসমান মন্তব্য করে বলেন, সবকিছুই তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। সাধারণ মানুষ মনে করে জেলা প্রশাসনের দুর্বল মনোভাবের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে রেড জোন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা বেশি । তাদের ভাষায় , জেলা প্রশাসন রেড জোনে লকডাউন কার্যকর করার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন জানান, রেড জোন চিহ্নিতসহ লকডাউন চলাকালে করণীয় সবকিছু যাতে ঠিকমতো হয় সে জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ বারবার সভা করে চলেছে। প্রকৃত রেড জোন চিহ্নিত করে অচিরেই লকডাউন ঘোষণা করা হবে।
