রাজধানীতে রেড জোন হিসেবে ৪৫ এলাকা ঘোষণা দেওয়ার ছয় দিন পার হলেও এখনো লকডাউন কার্যকর করতে পারেনি দুই সিটি করপোরেশন। তাদের দাবি, জোনভিত্তিক ডিমার্কেশন তৈরি করে না দিলে লকডাউন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির দিকে তাকিয়ে আছে।
এদিকে রেড জোনে কবে নাগাদ লকডাউন হবে এ নিয়ে রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত এলাকার বাসিন্দারাও রয়েছেন ধোঁয়াশায়। গত বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে আগের দিন বুধবার এলাকায় মাইকিং করেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন স্থানীয় কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ঢালী। যদিও উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম এই লকডাউনকে প্রথমে স্বাগত জানিয়েছিলেন। পরে জানানো হয়, এই লকডাউন কার্যকর হচ্ছে না। সিটি করপোরেশন থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়েও দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
লকডাউন নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে এমন হযবরল অবস্থার জন্য সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেছেন নগরবিদরা। নগর পরিকল্পনাবিদ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘লকডাউন নিয়ে আমাদের হযবরল অবস্থা হয়ে গেছে। শুরু থেকেই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় দেখা যায়নি। মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। আর এটা পরিষ্কার প্রথম অবস্থায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত না করায় সেখানে সফলতা আসেনি। তাই সেখান থেকেই আমাদেরকে শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘তালিকা প্রকাশের আগে এলাকাভিত্তিক লকডাউন কীভাবে করা হবে, তার বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা দরকার ছিল। এজন্য আগে ক্ষমতা দিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা প্রয়োজন ছিল। যদি কমিটিকে ক্ষমতা দিয়ে এসব নির্দেশনা দেওয়া হতো তাহলে এমন চিত্র দেখা যেত না।’ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৪৫টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটি। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটির ২৮টি ও উত্তর সিটিতে পড়েছে ১৭টি এলাকা।
এ বিষয়ে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বলে দিয়েছি, আমাদের সুনির্দিষ্ট করে এলাকাভিত্তিক তথ্য দেওয়া হোক। শুধুমাত্র একটি এলাকার নাম বলে দিলেই হবে না। কারণ, এলাকা তো অনেক বড়ো। পুরো এলাকা তো লকডাউন করা যাবে না। তাই আমরা বলেছি, এলাকা সুনির্দিষ্ট করে ডিমার্কেশন করে দেওয়া হোক। তাহলে আমরা সেটা বাস্তবায়ন করতে পারব। তা না হলে লকডাউন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’
ডিমার্কেশন করা হলে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে কত সময় লাগতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, ম্যাপিং চলে এলে আমরা কাজ শুরু করব। ডিমার্কেশন পেলে সর্বনিম্ন ৪৮ ঘণ্টা ও সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আমরা লকডাউন বাস্তবায়ন করতে পারব। সেই প্রস্তুতি আমরা নিয়ে রেখেছি।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা তো একটি সরকারি সংস্থা। আমাদেরকে নির্দেশ দিতে হবে যে, তুমি তোমার এই এলাকা লকডাউন কর। তাহলেই আমরা সেটা বাস্তবায়ন করব। কিন্তু এ ধরনের নির্দেশ কেউ আমাদের দেয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অফিসিয়ালি নির্দেশ দিতে হবে। এখন পর্যন্ত লকডাউনের বিষয়ে অফিসিয়ালি কোনো নির্দেশনা আসেনি।’
