দেশের রুই জাতীয় মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক মত্স্য প্রজনন ক্ষেত্র ও মত্স্য অভয়ারণ্য হালদা নদীতে দ্বিতীয় দফায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ। শুক্রবার বিকাল হতে গতকাল শনিবার ভোর পর্যন্ত হালদা নদীর আজিমের ঘাট, নাপিতের ঘাট, রামদা মুন্সির হাট, বাড়িঘোনার কুমগুলো হতে ডিম সংগ্রহ করেন মত্স্যজীবীরা। হালদার বুকে প্রায় শতাধিক নৌকা ভাসিয়ে ২ শতাধিক সংগ্রহকারী ডিম সংগ্রহ করেন। তবে ডিম সংগ্রহের পরিমাণ ছিল কম।
চলতি মৌসুমে গত ২২ মে প্রথম দফায় ডিম ছাড়ে মা মাছ। ঐ দিন ডিম সংগ্রহকারীরা রেকর্ডসংখ্যক ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ করেন। ঠিক একমাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় ডিম ছাড়ে মা মাছ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়ার প্রদত্ত তথ্যমতে সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল প্রথম দফায় ডিম ছাড়ার পর ১২ জুন দ্বিতীয় দফায় ডিম ছেড়েছিল মা মাছ। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ১৯ জুন হালদায় দ্বিতীয় দফায় ডিম ছাড়ে মা মাছ। এ ঘটনাকে তিনি আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করে দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, এটা হালদা নদী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটা নতুন দিকনির্দেশনা। এটার মাধ্যমে হালদা নদীর পরিবেশের যে উন্নয়ন হয়েছে এবং মা মাছের পরিমাণ বেড়েছে সেটা প্রমাণ করে। এবারে মোট সংগৃহীত ডিমের পরিমাণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা এখনো হিসাব করিনি তবে আনুমানিক ১৫০ হতে ২০০ কেজি হবে।
রাউজান সিনিয়র উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা পীযূষ প্রভাকর বলেন, দ্বিতীয় দফায় অল্প পরিমাণ ডিম ছেড়েছে মা মাছ। কিছু নৌকা দুই-তিন কেজি পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছে আবার কিছু নৌকা ডিম সংগ্রহ করতে পারেনি। তবে দ্বিতীয় দফায় মা মাছ ডিম ছাড়ায় খুশি সংগ্রহকারীরা। তারা এটাকে হালদা পরিবেশের একটি ইতিবাচক দিক বলে মনে করছেন।
