নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অভিনন্দন

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০১

গত ৩০ ডিসেম্বর সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে ও উত্সবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হইয়া গেল বহুল প্রত্যাশিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আজ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ গ্রহণ করিবেন বলিয়া নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়। তাহারা শপথ নেওয়ার সপ্তাহ খানেকের মধ্যে মন্ত্রীপরিষদ গঠিত হইতে পারে বলিয়া আভাস পাওয়া গিয়াছে। একটি নির্বাচিত সরকারের মেয়াদান্তে সঠিক সময়ে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো দলীয় সরকারের অধীনে নিবন্ধিত সকল দলের অংশগ্রহণে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইয়াছে। তাই আমাদের সংসদীয় নির্বাচনের ইতিহাসে ইহার তাত্পর্য অপরিসীম। নিবন্ধিত দলের বাহিরেও বিভিন্ন দল কয়েকটি জোটভুক্ত হইয়া অংশগ্রহণ করিয়াছে এই নির্বাচনে। আবার নির্বাচনের দিন নারী ও তরুণ ভোটারসহ সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক ও স্বতঃস্ফূর্ত। নির্বাচন কমিশনের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারকার নির্বাচনে ভোটদানের হার ৮০ শতাংশ। অর্থাত্ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি বিবেচনায় একাদশ জাতীয় নির্বাচন সবদিক দিয়াই হইয়াছে অংশগ্রহণমূলক। এই নির্বাচনে যাহারা জয়লাভ করিয়াছেন, তাহাদের প্রত্যেককে আমরা জানাই অভিনন্দন। একইসঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সফল ও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য নির্বাচন কমিশনসহ নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সহিত সংশ্লিষ্ট সামরিক-বেসামরিক সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সবাইকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ।

এইবারের নির্বাচনে ১৯৭০ সালের মতো আওয়ামী লীগ মহাবিজয় লাভ করিয়াছে। ২৯৯টি আসনের মধ্যে তাহারা এককভাবেই পাইয়াছে ২৫৯টি আসন। আর মহাজোটগতভাবে তাহাদের মোট আসনসংখ্যা ২৮৮টি। এই নিরঙ্কুশ জয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করিতে যাইতেছে আওয়ামী লীগ এবং চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হইতে যাইতেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের এই ভূমিধস বিজয় লাভে মুখ্য ভূমিকা রাখিয়াছে দেশে-বিদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিপুল জনপ্রিয়তা এবং তাহার সরকারের প্রচেষ্টায় দেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন অভিযাত্রা। পক্ষান্তরে বিরোধী পক্ষ প্রথম হইতেই ছিল ছন্নছাড়া। তাহাদের নেতৃত্বহীনতা, সিদ্ধান্তহীনতা, জনবিচ্ছিন্নতা, ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দিতে না পারা, প্রচার-প্রচারণায় অবহেলা ইত্যাদি নানা কারণেই তাহাদের ভরাডুবি হইয়াছে বলিয়া অনেকে মনে করেন। শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং জনগণের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসা থাকিলে শত প্রতিকূলতার মধ্যে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও যে নির্বাচনে জয়ী হইতে পারেন অনায়াসে, এই নির্বাচনেও তাহার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি হইয়াছে। 

ভোটগ্রহণের কয়েকদিন আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা তাহাদের প্রার্থী ও পোলিং এজেন্টদের সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়া ব্যালটবক্স খালি আছে কিনা তাহা পরীক্ষা করিয়া দেখিবার নির্দেশনা দেন। রাত জাগিয়া কেন্দ্র পাহারা দিবার কথাও বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে দেশের ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোটকেন্দ্রের অধিকাংশে তাহার প্রতিফলন দেখা যায় নাই। একটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দলের এজেন্ট এবং ১৪ হইতে ১৭ জন অস্ত্র ও লাঠিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থাকেন। এইবার ইহার বাহিরেও ছিল সশস্ত্র বাহিনী, র্যাব ও পুলিশের টহল। তাহাদের সকলকে ম্যানেজ করিয়া কোনো অনিয়ম করা কঠিন। এমতাবস্থায় তৃতীয় বিশ্বের তথা উন্নয়নশীল একটি দেশে যতটা সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করা যায়, ততটাই সুষ্ঠু হইয়াছে এই নির্বাচন। বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়াছে— যাহা দুঃখজনক হইলেও তাহা আমাদের উপমহাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিরই অংশ। আমাদের প্রতিবেশী ও বিশ্বের সর্ববৃহত্ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের নির্বাচনও সহিংসতামুক্ত নহে। তাহাছাড়া গুটিকয় ব্যতিক্রম দেশ বাদ দিলে একটি পারফেক্ট বা শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন বর্তমানে বিশ্বের কোথাও অনুষ্ঠিত হইতে দেখা যায় না।

অতএব, এই নির্বাচনে আমাদের ভুল হইতে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। উচিত নিজেদের নেতা-কর্মীদের আরো সক্রিয় ও ভোটারদের সচেতন করিয়া তোলা। তাহারা যত দায়িত্ববান হইবেন, ততই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা বাড়িবে। আমরা আশা করি, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় থাকিবে এবং চলমান বিশ্বনন্দিত উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান হইবে।