একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার কাঙ্ক্ষিত ভোট দেওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল। দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও আমি এবার ভোট দিতে পারিনি। খুব সম্প্রতি আমার আঠারো পূর্ণ হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য সবেমাত্র আবেদন করেছি। তাই আমার নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় না থাকায়, ভোট দেওয়ার সুযোগ আমার হয়নি। তবে বেশ উত্ফুল্ল মেজাজে ভোট পর্যবেক্ষণের সুযোগ হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকা হলো রাজশাহী-১ আসন। আমার নির্বাচনী আসন ছাড়াও নওগাঁ-১ আসনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ আমার হয়েছে। দুটো আসনের প্রায় ডজনখানেক কেন্দ্র আমি পর্যবেক্ষণ করেছি।
প্রথমেই বলব আমার নির্বাচনী এলাকার পরিবেশ নিয়ে। সকাল আটটায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আমি সকাল নয়টায় ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণের উদ্দেশে রওনা দেই। আমি লক্ষ্য করি, আমার গ্রামের লোকজন বেশ উত্ফুল্ল মেজাজে ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছিল। কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হলে, আমি তাদের নানা ধরনের প্রশ্ন করি। সবার কাছেই আমার সাধারণ প্রশ্ন ছিল, ভেতরের পরিবেশ কেমন? সবাই কি তাদের ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারছে? সবাই একই উত্তর দিয়েছে, ‘পরিবেশ বেশ ভালো। আমি আমার ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করতে পেরেছি।’
এবার কথা বলব, নওগাঁ-১ আসনের পরিবেশ নিয়ে। এই আসনের প্রায় পাঁচ থেকে ছয়টি কেন্দ্র আমি পর্যবেক্ষণ করেছি। পর্যবেক্ষণকৃত সকল কেন্দ্রে চমত্কার পরিবেশ বিদ্যমান ছিল। আমি যেসব ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা সবাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেওয়ার কথা আমাকে বলেছে। ভোটকেন্দ্রে আসার পথে কেউ ভয়ভীতি দেখিয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সকলে ‘না-বোধক’ জবাব দিয়েছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের কল্যাণে আমরা জেনেছি, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া দেশব্যাপী সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো বড় নির্বাচনে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা স্বাভাবিক। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, দেশব্যাপী নির্বাচনী সহিংসতায় সতেরো থেকে আঠারো জন মানুষ মারা গেছে, যার মধ্যে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা থাকলেও কিছু সাধারণ মানুষও রয়েছে। বিপুল জনসমর্থনে আওয়ামী লীগ এককভাবে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। টানা দশ বছরে বাংলাদেশের জনগণের জীবনমানের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নও চোখে পড়ার মতো। এ বছরই আমরা মহাকাশে স্যাটেলাইট ওড়াতে পেরেছে। পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পের কাজ চলছে পুরোদমে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রকল্পগুলো আওয়ামী লীগের রেকর্ডসংখ্যক আসন জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করবে। সকল সাংসদের কাছে শিশু-বৃদ্ধ, তরুণ-তরুণীসহ সর্বস্তরের মানুষের একটাই চাওয়া, সকলে মিলে যেন নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের দিকে নজর দেয়। বাংলাদেশের মানুষ আর রাজনৈতিক সহিংসতা দেখতে চায় না। সরকারি দল ও বিরোধী দল, সবাই মিলে যেন বাংলাদেশকে সহিংসতামুক্ত ও সম্প্রীতিময় দেশ হিসেবে গড়ে তোলে, সেই কামনা করি।
n লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
