মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার হোমনা ও মুরাদনগর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সংযোগস্থলে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের একমাত্র ওয়াই আকৃতির শেখ হাসিনা-তিতাস সেতুর নান্দনিক সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে বসেছে। মাত্র দুই বছর আগে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।
স্থানীয় কয়েক জন প্রভাবশালী মিলে ঐ সেতু লাগোয়া নদীর বিশাল এলাকা জুড়ে বাঁধ নির্মাণ করেছে এবং ড্রেজিং এর মাধ্যমে তা ভরাট করে সেখানে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত দর্শনার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর পূর্বপাড়ের চরলহনীয়া নামক স্থানে নতুন করে স্থাপনা তৈরির জন্য ব্রিজ সংলগ্ন অংশে বিশাল বাঁধ দিয়ে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ভরাটের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে দুইটি কফি হাউজ করা হয়েছে। এমন বাঁধের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং এতে সৌন্দর্য হারাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ওয়াই সেতুটি। স্থানীয়রা জানান, সেতুর নান্দনিক সৌন্দর্য ও নদীঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ কাছে টানছে দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীদের এবং সেখানে প্রতিদিন অনেক মানুষের ভিড় জমে। দর্শনার্থী কলেজ শিক্ষক মনিরুল ইসলাম, আবুল বাসার, ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন ভুঁইয়াসহ স্থানীয় লোকজন বলেন, ‘সেতুকেন্দ্রিক সম্ভাবনাময় দর্শনীয় এ স্থানকে পুঁজি করে স্থানীয় প্রভাবশালী চার ব্যক্তি সেতু সংলগ্ন অংশে বাঁধ নির্মাণ করেছে। তারা স্থানটি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ভরাটের পর সেখানে হোটেল-মোটেল নির্মাণের পাঁয়তারা করছে। সেতুর ঐ অংশটি বাঞ্ছারামপুর অংশের শেষ প্রান্তে হওয়ায় তারা বিনা বাধায় নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে ফেলেছে। অবিলম্বে বাঁধ নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সেতুটি সৌন্দর্য হারিয়ে হুমকির মুখে পড়বে।’ এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাসির উদ্দিন সারোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ পাইনি। তবে সরেজমিন পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেলে অবৈধ দখলদারেরা যত বড়ো প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ওয়াই আকৃতির শেখ হাসিনা-তিতাস সেতুটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করেন। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭৭১ মিটার ও প্রস্থ ৮.১০ মিটার।
