ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৭৫ শতাংশ শিশু শিক্ষার্থী টেলিভিশন ক্লাস থেকে বঞ্চিত

আপডেট : ২১ জুন ২০২০, ২৩:০২

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশন ক্লাস করতে পারছে না। চলমান মহামারি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সংসদ টেলিভিশনে প্রচারিত শ্রেণি পাঠদানে ৭৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশু শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ‘বাংলাদেশে শিক্ষার ওপর কোভিড-১৯-এর প্রভাব’ শীর্ষক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশা চাকমা বলে, আমাদের টিভিতে শেখার সুযোগ নেই। অনেক দূরে গিয়ে টিভি দেখতে হবে। তাই দূরশিক্ষণ পাঠদানে যাওয়া হয় না। তার মা বিপাশা চাকমা বলেন, আশা ছিল, কিছুটা লেখাপড়া শিখে শহরে চাকরি করবে মেয়ে। ঘুচে যাবে আমাদের কষ্টের দিন। কিন্তু এখন করোনা সংক্রমণের এ সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় তাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে অনলাইনে লেখাপড়া, পরীক্ষা চালিয়ে গেলেও নিশাদের মতো অভাবী আর প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের সেই সুযোগ-সুবিধা একেবারে নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেলিভিশন ইন্টারনেট বা বিদ্যুত্ সংযোগ না থাকা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের ভাষাগত সমস্যা, এসব কারণে ঐ শিক্ষার্থীরা দূরশিক্ষণে অংশ নিতে পারছে না। জরিপে আরো জানা যায়, সারাদেশ থেকে টেলিভিশন ক্লাসে অংশ নিতে না পারা শিশুশিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৬ শতাংশ। করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে চলতি বছর ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেতে ব্র্যাক দেশের ৮ বিভাগের ১৬টি জেলায় ৪ থেকে ৭ মে এই জরিপ পরিচালনা করে। এতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে পড়া ১ হাজার ৯৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

জরিপে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সংসদ টেলিভিশনের ক্লাসে অংশ নিচ্ছে না। এর মধ্যে মাদ্রাসা, গ্রামাঞ্চল ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থীও টেলিভিশন ক্লাসে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে কিছু সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে। ব্র্যাক বলছে, টিভি না থাকা, বিদ্যুত্ বা ক্যাবল না থাকার কারণে তারা টিভি ক্লাসের বাইরে রয়েছে। জরিপে আরো উঠে এসেছে, টেলিভিশনের ক্লাসে যে ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে তাদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ বলছে এসব ক্লাস তাদের কাজে লাগছে না। সারাদেশ থেকে ১৬টি জেলা বাছাই করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ হাজার ৯৩৮ জন শিক্ষার্থীর ওপর এই জরিপ করা হয়। বর্তমানে দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে অধ্যয়ন করছে ৩ কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নানান উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য অনলাইন এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা দুর্যোগকালে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সংসদ টেলিভিশনে ও বেতারে পাঠদান চলছে। পাশাপাশি এসব ভিডিও এটুআই-এর ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউবেও আপলোড করা হচ্ছে। তিনি জাানান, টেলিভিশন ও রেডিওতে পাঠদানের পর এবার চালু করা হচ্ছে বিশেষ হেল্প লাইন নম্বর ৩৩৩৬। চলতি জুনেই পরীক্ষামূলকভাবে এই হেল্প লাইনটি চালু হবে।

প্রসঙ্গত, ৩৩৩৬ সেবায় যে কোনো মুঠোফোন অপারেটর থেকে এ নম্বরে ডায়াল করলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকে তার নিজ শ্রেণির পাঠদান পরামর্শ পাবে। পাঁচ মিনিট পর্যন্ত কোনো টাকা কাটা হবে না।