তলিয়ে গেছে যমুনার চরাঞ্চলের বাদাম খেত

আপডেট : ২২ জুন ২০২০, ২১:৩৩

রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি

যমুনায় উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ও প্রবল বর্ষণে পানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় পাবনার চরের নিম্নাঞ্চলের শত শত একর জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। এতে চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জমি থেকে ডুবে যাওয়া বাদাম তোলার চেষ্টা করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পাবনা জেলার চরপেঁচাকোলা, চরআড়ালিয়া, সাঁড়াশিয়া, চরসাফুল­া, চরনাগদা, চরঢালা, চরকল্যানপুর, পূর্বশ্রীকণ্ঠদিয়া, পদ্মারচর, চরযমুনা, বাইরচর, শ্রীপুর, খিদ্রদাশুরিয়া, মুরাদপুর, বরাংগাল, ঘোড়জান  চরের  দেড় হাজার একর  জমিতে বাদাম  চাষ হয়েছে। বেড়া উপজেলার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, এ বছর বাদামের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ছিল। কৃষকেরা নৌকা নিয়ে পানিতে ডুব দিয়ে জমি থেকে বাদাম তুলছেন। সেই বাদাম যমুনার পশ্চিম পাড়ে নামানো হচ্ছে। কিষানি ও কিশোর-কিশোরীরা গাছ থেকে বাদাম ছাড়িয়ে স্তূপ করে রাখছেন। কৃষকেরা জানান, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়  থেকে শুরু করে প্রায় এক মাস ধরে তারা চরের বালুমিশ্রিত জমিতে বাদাম আবাদ করে থাকেন। আর সেই বাদাম জমি থেকে তোলা শুরু হয় মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে। সাধারণত জুনের শেষ সপ্তাহের মধ্যে সব বাদাম কৃষকের ঘরে উঠে যায়। এবার তারা রোজার ঈদের পর জমি থেকে বাদাম তোলার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাত্ করে উঠতি বাদাম তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন। ঠিক এই সময়েই আবার শ্রমিকসংকটও ছিল। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক স্থানেই চাষিরা পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে ডুবে যাওয়া বাদাম তুলছেন। কিন্তু এভাবে বাদাম তোলার পর অর্ধেক ফলনও পাওয়া যাচ্ছে না। এর ওপর বেশির ভাগ ডুবে যাওয়া জমি থেকে বাদাম তোলা সম্ভবও হচ্ছে না। কাজিরহাট ঘাটের লঞ্চচালক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, কাজিরহাট লঞ্চঘাটের আশেপাশে বাদামের অনেক জমি রয়েছে। এসব জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের দুরবস্থা দেখে আমরা লঞ্চের কর্মীরা মিলে কদিনে প্রচুর বাদাম তুলে দিয়েছি। ডিউটির চাপ কম থাকায় আমরা কৃষকদের সাহায্য করতে পেরেছি। রুপপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ঠান্টু শেখ জানালেন, গত বছরের তুলনায় এবার বাদামের ভালো ফলন হয়েছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের পর যমুনায় পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় শত শত বিঘা জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। অন্যান্য চরের চেয়ে কাজিরহাট এলাকা নিচু হওয়ায় এখানকার বাদামচাষিদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

 জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আজহার আলি বললেন, যমুনায় পানি বাড়ায় কিছু বাদামের খেত তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই জমির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।