দেশের স্বাস্থ্যখাতে ঈর্ষণীয় সাফল্য

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৫০

স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের সফলতা উল্লেখ করার মতো। গত ১০ বছরে স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে তা ফুটে উঠেছে। সরকারের সাফল্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিতও হয়েছে।

দেশের সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার নেটওয়ার্ক। বেড়েছে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের হার।

বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে সরকারিভাবে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। কেবল শহরে নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামেও এখন রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক, যাতে গ্রামের মানুষ সহজেই স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারে। আওয়ামী লীগ সরকার ইতোমধ্যেই প্রায় ১৫ হাজার হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যু হার গত ১০ বছরে ৭৪ ভাগ কমে প্রতি হাজারে ৩৪ দশমিক ২ জনে দাঁড়িয়েছে। এক বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যু হার প্রতি হাজারে ৩১ জন। নবজাতক মৃত্যু হার প্রতি হাজারে ১৯ জন। মাতৃমৃত্যু হার প্রতি লাখে ১৭২ জন। একইসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশকে পোলিও এবং ধনুস্টংকারমুক্ত ঘোষণা করেছে।

এছাড়াও হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। এই ট্রাস্টের আওতায় সারাদেশে ১৩ হাজার ৭৭৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়েছে। রাজধানীর চানখাঁরপুলে ৫০০ শয্যার ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল’, ১০টি বিশেষায়িত ও চারটি জেনারেল হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৩০টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ২০৮টি নতুন হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। মেডিক্যাল শিক্ষা সম্প্রসারণ করে আরও ১৮ সরকারি এবং সামরিক বাহিনীর অধীনে ৬টি মেডিক্যাল কলেজ চালু করা হয়েছে। বিএসএমএমইউ’র পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। গোপালগঞ্জে ইডিসিএল’র নতুন প্লান্ট চালু করা হয়েছে। জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য ১৫ হাজার ৫৯৬ জন চিকিত্সক  এবং প্রায় সমপরিমাণ নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে নতুন প্রায় ১১ হাজার শয্যা বাড়ানো হয়েছে। নতুন ওষুধ নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৪৫ দেশে ওষুধ রপ্তানি করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, নোবেল বিজয়ী ড. অমর্ত্য সেন ‘ল্যানসেট’ জার্নালে ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর লিখেছিলেন ‘যারা স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন তারা ভাবতেও পারেননি এই বাংলাদেশ একদিন ঝুড়ি থেকে বেরিয়ে এসে সামনে এগিয়ে যাবে। যে দেশ কয়েক দশক আগে অতি দরিদ্র ছিল, তারা স্বাস্থ্যখাতসহ কয়েকটি সামাজিক সূচকে কিভাবে বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জন করলো তা ভেবে দেখা খুবই দরকার।’  মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ল্যানসেটের জরিপে স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ ৫২তম অবস্থানে রয়েছে।

এক বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নতি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে জাতির পিতার প্রদর্শিত পথেই দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে।’

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছেন। তার একনিষ্ঠ পরিশ্রমের ফলে সারাবিশ্বেই প্রশংসিত বাংলাদেশ। কালাজ্বরে মৃত্যুর হার এখন শূন্যের কোঠায়। যক্ষ্মা রোগের চিকিত্সায় সফলতার হার এখন ৯৪ ভাগ। এইচআইভির বিস্তারের লাগাম টেনে ধরা হয়েছে। ২০১১ সালে বার্ড ফ্লু প্রতিহত করা হয়েছে। হেপাটাইটিস-বি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, রুবেলার টিকা এখন সরকারি টিকা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।