ঝিনাইদহে সংগ্রহ মূল্যের চেয়ে খোলা বাজারে ধান-চালের দাম বেশি থাকায় বোরো সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হতে চলেছে। কোনো চাষি ধান নিয়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্রগুলোতে যাচ্ছেন না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস জানান, চলতি বছর এ জেলায় ৭৭ হাজার ৫৩৫ হেক্টরে বোরো চাষ হয়েছে। আর ধান উত্পাদন হয়েছে ৫ লাখ টন। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ধানের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের তথ্যমতে ১০০ হেক্টরের ধান নষ্ট হয়েছে। চাষিদের তথ্য মতে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ আনোয়ার কবির জানান, চলতি বোরো সংগ্রহ অভিযানকালে এ জেলায় ১৪ হাজার ১৪২ টন ধান ও ১৭ হাজার ৬২২ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত ১২১ টন ধান ও ১ হাজার ৫৬৮ টন চাল সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। জেলার ৯টি সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান-চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। মাসখানেক আগে বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। ভরা মৌসুমেও প্রতি মণ ধান ১ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি সংগ্রহ মূল্য ধার্য করা হয়েছে প্রতি কেজি ২৬ টাকা। অর্থাত্ প্রতি মণ ১ হাজার ৪০ টাকা। অতীতে দেখা গেছে খুব কম সংখ্যক চাষি সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পেরেছেন। দালালচক্র নানা কৌশলে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। তাদের আনাগোনা নেই সংগ্রহকেন্দ্রগুলোতে। শৈলকুপার উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামের চাষি মফিজুল ইসলাম বলেন, ১০ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেন। এক মণ ধানও সরকারি গুদামে বিক্রি করতে পারেননি। গ্রামের ইউপি মেম্বর ৭০ মণ ধান বিক্রির কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তার ভাগে কার্ড জোটেনি। অধিকাংশ প্রকৃত চাষির একই অভিযোগ। আর আমন সংগ্রহকালে চাল বিক্রি করে অস্বাভাবিক মুনাফা লুটেছে চালকল মালিকেরা। গত আমন মৌসুমেও মোটা চাল প্রতি কেজির দাম ছিল ২৭-২৮ টাকা। তারা সরকারি গুদামে চাল বিক্রি করে কেজি প্রতি সাত-আট টাকা করে লাভ করেছে। বোরো মৌসুমে পরিস্থিতি বদলে গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি চাল সর্বনিম্ন ৪০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। এতে মিল মালিকরা সরকারি গুদামে চাল বিক্রি করছেন না। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেন, ৪৪০ জন চালকল মালিকের সঙ্গে চাল সরবরাহের চুক্তি হয়েছে। তিনি জানান, তারা আস্তে আস্তে চাল সরবরাহ করবেন।
