পিতামাতা হিসাবে এটি সত্যিই একটি জটিল সময়। তবে উন্মুক্ত যোগাযোগ অনেকগুলো সমস্যার সমাধান করতে পারে। আমাদের সমাজের পিতামাতার বেশির ভাগই এখন যৌনতা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক, লিঙ্গ রাজনীতি ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মতো অন্তরঙ্গ বিষয়গুলো নিয়ে শিশুদের সঙ্গে আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। তাদের কৌতূহল এবং এই সময়ের বন্ধুর অভাব পূরণের জন্য তারা ইন্টারনেটে বেশি সময় ব্যয় করে, যা কোনো বিবেচনায়ই ঠিক নয়। তাই তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কাছাকাছি থাকুন। খোলামেলা আলোচনার সময় এখনই শুরু হতে পারে। কখনো খুব বেশি দেরি হয়ে গেছে বলে ভাববেন না, যখন অনুভব করবেন তখনই আলোচনা শুরু করুন। লকডাউনের সময় কীভাবে পিতামাতা সন্তুানদের সহায্য করে একটি বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারেন, তার কয়েকটি দিক তুলে ধরা হলো—
প্রথমত, আপনার সন্তানদের সংবাদমাধ্যমে বিচরণ সীমাবদ্ধ করুন, বিশেষত যে গণমাধ্যম বিপজ্জনক সংবাদ প্রচার করে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন এবং সন্তানদের জানান যে তারা আপনার কাছে নিরাপদ। আপনি তাদের জন্য নিরাপত্তার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা করবেন। পুনরাবৃত্তিজনক আশ্বাস থেকে সতর্ক থাকুন—এটি শিশুদের মধ্যে সংকটের সৃষ্টি করে। যদি শিশুরা উল্লেখযোগ্য মানসিক সমস্যায় থাকে, তবে পেশাদার মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ সময় অযথা ভ্রমণ হতে বিরত থাকুন। প্রয়োজন হলে টেলিযোগাযোগের চেষ্টা করুন।
দ্বিতীয়ত, বাচ্চারা কেমন অনুভব করছে এবং তারা কী ভাবছে, তা জানার চেষ্টা করুন। তাদের জানতে দিন বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে। এ সময় ভয় পাওয়া বা অনিশ্চিত বোধ করা অস্বাভাবিক নয়। তাদের প্রশ্ন করতে এবং জানার আগ্রহকে উত্সাহিত করুন। তাদের উদ্বেগগুলো উড়িয়ে দেবেন না বা ভুয়া প্রতিশ্রুতি দেবেন না। সততার সঙ্গে তাদের সঙ্গী হবেন। পরিবারে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে কী করবে সে সম্পর্কে তাদের সঙ্গে কথা বলুন, যাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা চিন্তিত বা উদ্বিগ্ন না হয়।
তৃতীয়ত, অনেকে নিয়মিত রুটিনে স্বাভাবিক থকতে পারে। কেউ আবার এই অবস্থায় হাঁপিয়ে উঠতে পারে। তাই ঘরে থাকা অতিরিক্ত সময় পূরণ করার জন্য প্রতিদিনের স্বাভাবিক রুটিন পরিবর্তন করে নতুন রুটিন করুন। তাদের শখের কাজে উত্সাহিত করুন। গাছ লাগানো, রান্নাঘরে বাবা-মাকে সহায়তা করা, ঘর গোছানো, নিজের ব্যবহারের বস্তু নিজেকেই গুছিয়ে রাখতে উত্সাহিত করুন। নিশ্চিত করুন পারিবারিক নৈশভোজ, শয়নকালীন গল্প, হোম মুভি প্রভৃতি যেমন করোনা ভাইরাস আমাদের আঘাত করার আগে ছিল। এটি তাদের জন্য স্বাভাবিক জীবনের আশ্বাস দেয়।
সর্বোপরি অসাধারণ সময়গুলোর জন্য অসাধারণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। যদি পরিস্থিতির চাহিদা থাকে, তবে এ সময় পরিবার ও সন্তানের জন্য একটি নতুন রুটিন করুন। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনগুলো ঠিক রেখে রুটিনকে তৈরি করুন। পারিবারিক সময়, একাডেমিক কাজ, ঘরের কাজ, খেলা, সমবয়সি এবং আত্মীয়দের সঙ্গে ফোনে কথাবার্তা বা প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করুন। খাবার খাওয়া ও শোওয়ার সময়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বেছে নিন। ঘরেই কিছু ব্যায়াম অনুশীলন যেমন যোগব্যায়াম, স্কিপিং ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করতে ভুলবেন না।
তথ্য ও ছবি: ইন্টারনেট
