২৭ বছর বয়সি ঢাকার লাবনীর মতো অনেক পরিবারের জন্য করোনা ভাইরাস এক অবর্ণনীয় কষ্ট বয়ে এনেছে । ৭, ৯ ও ১১ বছরের তিন কন্যাসন্তানের জননী লাবনী কারচুপির কাজ করে প্রতি মাসে উপার্জিত ৪ হাজার টাকায় সংসার চালান। কিন্তু লকডাউনের কারণে কাজ হারিয়েছেন তিনি। লাবনী বলেন, ‘যদিও আমার আয় খুব কম, তবুও এই অল্প টাকায় আমাদের সংসার চলে যেত কোনো রকমে। স্বামী ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে পাঁচ বছর ধরে এভাবেই চলছিল। অন্য কোথাও কাজও পাচ্ছিলাম না। ফলে সন্তানদের দিনে দুই বেলা খাবার জোগাড় করাও ছিল অনেক কঠিন। এছাড়া মেয়েদের জন্য একটু মাছ-মাংসও কিনে খাওয়ানো যাবে। এখন কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।’ শিশুরা নির্যাতন ও শোষণের মতো বিষয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে, যে সময় তাদের মানসিক সাহায্য খুব প্রয়োজন। ইবোলা মহামারির মতো অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, শ্রেণিকক্ষের বাইরে থাকায় শিশুদের প্রতি বাড়িতে সহিংসতা, বিশেষ করে শারীরিক ও যৌন সহিংসতা, বাল্যবিবাহ ও মানসিক নির্যাতন বেড়ে যায়। কোভিড-১৯ বিস্তারের কারণে অবহেলিত এসব মানুষের জীবন ও জীবিকায় খুবই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এদের হাত ধোয়ার সাবান, মাস্ক কেনা তো দূরের কথা। নুন-ভাত জোগাড় করাই দায়। কেউ কেউ ত্রাণ দেয়। তারা পায়ও, তবে কত দিন আর ত্রাণের সাহায্যে চলা।
