স্থানীয় সরকার খাতে বরাদ্দ ৪ শতাংশে উন্নীত করতে হবে

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ২২:১৪

করোনা মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য প্রকৃত উন্নয়ন বরাদ্দ ১ দশমিক ৭ শতাংশ নয়, অন্তত ৪ শতাংশে উন্নীত করা দরকার। গতকাল মঙ্গলবার ‘গভর্ন্যান্স অ্যাডভোকেসি ফোরাম’ আয়োজিত ‘করোনাকালে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা ও বাজেট ২০২০-২১’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

গভর্ন্যান্স অ্যাডভোকেসি ফোরামের চেয়ারপার্সন ও পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফোরামের সমন্বয়কারী ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. ফেরদৌস আরফিনা ওসমান ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সভাপতির বক্তব্যে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘বর্তমানে করোনার কারণে মানুষ যেমন আক্রান্ত, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও মানুষ দুরবস্থার শিকার। কিন্তু বাজেট হয়েছে গতানুগতিক। স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব সম্পর্কে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও নানা কথা বলা হলেও তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কিন্তু এবারের মহামারি যেহেতু সাধারণ মহামারি নয়, তাই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।’

ড. এম এম আকাশ বলেন, ‘একটি অন্তর্বর্তীকালীন বা দুর্যোগকালীন বিশেষ বাজেট করতে পারত সরকার। করোনার কারণে যে বিশেষ বরাদ্দ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, তা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা ফোকাস করা দরকার ছিল। সহায়তার জন্য নতুন দরিদ্র মানুষের তালিকা সঠিকভাবে করতে হবে, সেখানে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বের বিকল্প নেই। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা বজায় রেখে সরকারি সহায়তাগুলো তদারকির দায়িত্ব দিতে হবে।’

আলোচনাপত্র উপস্থাপনকালে মহসিন আলী বলেন, সমতাভিত্তিক উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ নীতির আলোকে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে দায়িত্ব দিতে হবে, তাদের কাছ থেকে কাজ বুঝে নিতে হবে এবং আস্থা রাখতে হবে।