মৌসুমের শুরুতে ব্যাপক বৃষ্টিতে মাঠেঘাটে পানি ওঠায় চাঁই (মাছ ধরার খাঁচা) বিক্রির ধুম পড়ায় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। গত দুই বছরের লোকসান এবার কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে জানালেন শরণখোলা উপজেলার ‘চাঁই গ্রাম’খ্যাত উত্তর কদমতলা গ্রামের চাঁই ব্যবসায়ীরা। সোমবার সকালে উপজেলার উত্তর কদমতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এসে চাঁই কিনে ভ্যান বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছেন। চাঁই ব্যবসায়ী জামাল মুন্সি বলেন, বছরের জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় ও শ্রাবণ— এ তিন মাস তারা ব্যবসা করেন। এর আগে মাঘ মাসে গ্রাম থেকে বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ কিনে মাছ ধরার চাঁই বানানো শুরু করেন। বৈশাখ মাস পর্যন্ত তারা একেকজন এক থেকে দেড় হাজার চাঁই তৈরি করেন। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ের বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাট পানিতে তলিয়ে গেলে তাদের বেচা-কেনার ধুম পড়ে যায়। সাধারণ মানুষ খাল-বিল, মাঠ-ঘাটে চাঁই পেতে মাছ ধরেন।
গত দুই বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে মাঠে-ঘাটে পানি না ওঠায় তারা চাঁই তেমন বিক্রি করতে পারেননি। এ বছর সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় তাদের বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। ফলে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জামাল।
একই ধরনের কথা বলছিলেন চাঁই ব্যবসায়ী দুলাল হাওলাদার, হালিম হাওলাদার, জামাল হাওলাদার, হাবিব হাওলাদার, নেছার হাওলাদার, হেলাল হাওলাদার, খোকন হাওলাদার ও হারুন মুন্সি। তারা জানান, উত্তর কদমতলা গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার গত প্রায় ৩০ বছর ধরে গ্রামাঞ্চলে মাছ ধরার চাঁই তৈরি করে ব্যবসা করে আসছেন। মোরেলগঞ্জ, সন্যাসী, তুষখালী, মঠবাড়ীয়া, ভাণ্ডারিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা এসে পাইকারি দরে হাজার হাজার চাঁই কিনে নিয়ে যায়। একটি চাঁই ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
