‘মুজিব কোট’ পরে সংসদে বিএনপির এমপি হারুন

আপডেট : ২৩ জুন ২০২০, ২২:৪৩

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩) গতকাল মঙ্গলবার সংসদে গিয়েছিলেন ‘মুজিব কোট’ পরে। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর তার বক্তব্যের সময় সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার বিরুদ্ধে ‘বক্তব্যে হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে তিনি ওয়াকআউট করেছেন। এর আগে হারুন তার বক্তব্যে দেশের করোনা পরিস্থিতিতে ব্যর্থতার দায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

বেলা ১টার দিকে হারুনকে ১২ মিনিট আলোচনার সুযোগ দেন ডেপুটি স্পিকার। শুরুতেই হারুন তার সময় আরো বাড়িয়ে দেওয়ার আরজি জানান। হারুন তার বক্তব্য শুরু করেন ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ দিয়ে। তখন ডেপুটি তাকে থামিয়ে এভাবে শুরু করার কারণ জানতে চান। হারুন বলেন, তিনি এটা বলেছেন,          তার কারণ আছে। বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি তার ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তখন ফজলে রাব্বী মিয়া তার উদ্দেশে বলেন, ‘এমনভাবে শুরু আমার সাতবারের সংসদ সদস্য জীবনে দেখিনি, আপনাকে অবশ্যই এর ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

বক্তব্যে বিএনপির এই এমপি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন—করোনা দু-তিন বছরেও যাবে না। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডিজি। তাহলে এই করোনা আমাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। এটাকে মোকাবিলা করার জন্য উন্নয়নের কথা চিন্তা না করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা দরকার। জাতীয় ঐক্যের জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ বিএনপির হাজার-হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা মামলা রয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে। একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সরকারদলীয় এমপিরা হইচই শুরু করেন। এসময় হারুন বলেন, হইচই করে লাভ নেই। চিল্লাচিল্লি করে কোনো লাভ হবে না। জনগণের কাছে বার্তা যাচ্ছে যে আপনারা সত্য তথ্য তুলে ধরা থেকে বঞ্চিত করছেন।

এ পর্যায়ে হারুনের সময় শেষ হয়ে গেলে মাইক বন্ধ হয়ে যায়। হারুন মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন। এসময় অন্য সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। হইচইয়ের মধ্যেই হারুন সময় বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ডেপুটি স্পিকারের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার সময় না বাড়ালে এর প্রতিবাদে সংসদকক্ষ ত্যাগ করতে উদ্যত হন তিনি। ডেপুটি স্পিকার তখন তাকে বসতে এবং তার কথা শুনতে অনুরোধ করেন। এ পর্যায়ে হারুন চেয়ারে বসলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘হইচইয়ের জন্য আমি নিজে দুঃখ প্রকাশ করছি। আপনি জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছেন এটি সুন্দর প্রস্তাব। কিন্তু আপনি এমন দুই জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন যাদের কথা আমি সংসদের এই চেয়ারে বসে উচ্চারণ করতে চাই না। একটি নির্বাচিত সরকার কোনো কনভিক্টেড ব্যক্তির সঙ্গে ঐক্য করতে পারে না। আপনার অসংসদীয় শব্দগুলো আমি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিচ্ছি।’ হারুন তার বক্তব্যে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। এটাও সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে জানান ডেপুটি স্পিকার।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর ইশারায় হারুনকে সময় দেন ডেপুটি স্পিকার। এসময় হারুন বলেন, সংসদ নেতার (প্রধানমন্ত্রী) কথায় আপনি আমাকে সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমার কথার মধ্যে স্পিকার হয়ে বাধা দিয়েছেন। এটা দুঃখজনক। এজন্য আমি ওয়াকআউট করছি। এরপরও তিনি হইচই করতে থাকেন। এসময় ফজলে রাব্বী মিয়া সরকারদলীয় এমপিদের উদ্দেশে বলেন, ‘হারুন-অর-রশীদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য আমি যথেষ্ট। আমি আনপারলামেন্টারি কিছু হতে দেব না। এটা সরকারি দলের এমপি হলেও আমি ইন্টারেপ্ট করব।’

ওয়াকআউটের আগে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি তুলে ধরে সংসদে উপস্থিত থাকা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হারুন বলেন, ব্যর্থতার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দিন।

হারুন বলেন, সমাজে ঘুণ ধরে গেছে। চাঁদাবাজি, শেয়ার কেলেংকারিসহ খারাপ ব্যক্তিরা দেশ নিয়ন্ত্রণ করছে। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। এই সংসদে এমন ব্যক্তি এসেছেন, যিনি মাদক পাচারের শীর্ষে। তিনি কীভাবে সংসদে এলেন? তার স্ত্রী কীভাবে সংসদে এলেন? সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয় না থাকলে সংসদে আসতে পারতেন না। হারুন আরো বলেন, পুলিশের আইজি বেনজীর আহমেদ নসিহত দিচ্ছেন। সত্ হতে হবে। ১০ বছর ধরে শীর্ষ পদে আছেন তিনি। গত নির্বাচনে যারা মানুষের আমানত নষ্ট করেছেন, এর জবাবদিহি করতে হবে না? এই পুলিশ দিয়ে সত্ প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। পুলিশ আওয়ামী লীগের গোলাম ও দাস বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

এদিকে, হারুন মুজিব কোট পরে সংসদে যাওয়ায় এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানামুখী মন্তব্য আসে। যদিও এমপি হারুন এ ব্যাপারে পরে গণমাধ্যমকে বলেছেন, তার ঐ পোশাক মুজিব কোট নয়। মুজিব কোটে ছয়টা বোতাম থাকে এবং কালো হয়। এর বাইরে অন্য রঙের কোটগুলোকে মুজিব কোট ধরা হয় না। মানুষ এমনিতেই পাঞ্জাবির ওপর কোট পরে, তিনিও সেভাবেই পরেছেন।