যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। দেশটিতে কমার পর আবার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। জার্মানিতে একটি কারখানায়ই ১৩০০ কর্মী সংক্রমিত হওয়ায় আবার লকডাউন দেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ডে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহেই বেড়েছে ২৫ শতাংশ
দেশটিতে ২১ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। অন্তত ২৫টি রাজ্য সরকার জানিয়েছে, গত সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এর আগের সপ্তাহের চেয়ে বেড়েছে। ১০টি রাজ্যে সংক্রমণের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১২টি অঙ্গরাজ্যেও আগের চেয়ে বেড়েছে। টেক্সাসে গত সপ্তাহে ২৪ হাজার আক্রান্ত হয়েছে যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৮৪ শতাংশ বেশি। ফ্লোরিডায় বেড়েছে ৮৭ শতাংশ। অ্যারিজোনায় বৃদ্ধি পেয়েছে ৯০ শতাংশ। ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ জার্সি, ইলিনোইস, টেক্সাস ও ম্যাসাচুসেটসে ১ লাখ অতিক্রম করেছে সংক্রমণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ লাখ লোক মারা যেতে পারতো। ১৬ মার্চ ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের একটি প্রতিবেদনে দেখে গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে মোট মৃতের সংখ্যা ২২ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।
জার্মানিতে ফের লকডাউন
মাংস প্যাকেটজাত করার একটি কারখানায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর জার্মানিতে নতুন করে লকডাউন আরোপ করা হচ্ছে। দেশটির নর্থ-রাইন-ওয়েস্টফারিয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, গুটেরস্তো জেলা যেখানে ৩ লাখ ৬০ হাজার লোকের বসবাস সেখানে লকডাউন আরোপ করা হচ্ছে। ৩০ জুন পর্যন্ত এই লকডাউন বলবত্ থাকবে। টনিজ নামে ঐ মাংস প্যাকেটজাত করার কারখানার কমপক্ষে ১৩০০ শ্রমিক-কর্মচারীর শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। জার্মানিতে মে মাসে লকডাউন তুলে নেওয়ার পর এই প্রথম তা আবার আরোপ করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গতকাল কড়াকড়ি শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। ৪ জুলাই থেকে পাব, রেস্টুরেন্ট, গ্যালারি ও থিয়েটার খুলে দেওয়া হবে। দুই মিটার থেকে কমিয়ে সামাজিক দূরত্ব এক মিটার করা হবে। মুখোমুখি হওয়া এড়াতে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পূর্বনির্ধারিত বুকিং সিস্টেম অনুযায়ী ধারণক্ষমতার চেয়ে কম মানুষ অংশ নিতে পারবে। এদিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ পিটার পায়োট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ১৯৭৬ সালে ইবোলা ভাইরাস আবিষ্কার করার পর এইচআইভি বা এইডস নিয়ে গবেষণা করেন তিনি। এর আগে কখনো কোনো বড়ো রোগে আক্রান্ত হননি তিনি।
