মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
মহাদেবপুর উপজেলা সদরের ব্যস্ত সড়কে দীর্ঘদিন ধরে হাট বসছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, উপজেলা সদরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে শহরের শিবগঞ্জ মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার বাইপাস সড়কে সপ্তাহের প্রতি বুধবার ও শনিবার হাট বসছে। এই বাইপাস সড়ক দিয়ে নিয়ামতপুর ও পোরশা উপজেলার বাসিন্দাদের জেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের বক চত্বর মোড় থেকে পোস্ট অফিস মোড় এলাকা পর্যন্ত অস্থায়ী খুচরা ও পাইকারি বাজার বসছে। হাটের দিন শহরের বক চত্বর মোড় থেকে পূর্ব দিকে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত সড়কের ওপর প্রায় ৪০০ মিটারে চলে ধান কেনা-বেচা। সড়কের ওপর আড়ত বসিয়ে ধান কেনা-বেচা করেন ব্যবসায়ীরা। হাটের দিনগুলোতে যানজট এতটাই তীব্র হয় যে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রী ও পথচারীদের।
স্থানীয় সর্বমঙ্গলা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদের প্রধান গেট থেকে বক চত্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে চলছে ধান কেনা-বেচা। ধান কিনে রাস্তার ওপরই স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সড়কের মাঝখানেই ট্রাক দাঁড় করিয়ে স্তূপ থেকে ট্রাকে ধান লোড করা হচ্ছে। বক চত্বর মোড় থেকে পোস্ট অফিস মোড় সড়কের দুই পাশে দোকান বসিয়ে আম, কাঁঠাল প্রভৃতি কেনাবেচা করা হচ্ছে। এতে সড়কটি সংকুচিত হয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা সদরের বাসিন্দা ছাইদুর রহমান বলেন, ‘সড়কের ওপর ধানের আড়ত ও বাজার বসে। যান ও পথচারী চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এই সড়কের ওপর হাটবাজার বসা বন্ধ করা উচিত।’ মহাদেবপুর বাজার বণিক সমিতির সাবেক সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সভাপতি গৌতম কুমার মহন্ত বলেন, ‘আলাদা কোনো জায়গা নির্ধারণ করে সড়কের ওপর হাটবাজার সরিয়ে নেওয়ার দাবি বণিক সমিতির দীর্ঘদিনের। জায়গা না থাকায় আড়তদারদের সড়কের মাঝখানে ধান স্তূপ করে রাখতে হয়। ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।’ এ ব্যাপারে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান মিলন বলেন, ‘এ সমস্যাটি আমার চোখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
