চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজের অনুষদের একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না দেওয়ায় এমন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। এ ঘটনার পর থেকে ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে ঘটনাকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত শাখা ছাত্রলীগের সাবেক পাঁচ নেতা। তারা হলেন সাবেক সহসভাপতি মনসুর আলম, আল আমিন রিমন, আবদুল মালেক, সুমন নাছির ও ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয়। একই সঙ্গে তাদের ওপর আসা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বরাবর প্রতিবাদলিপি পেশ করেন এ পাঁচ নেতা।
ভবনের নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে সাড়া না মেলায় নির্মাণকাজে ভাঙচুর চালিয়ে শ্রমিকদের মারধর করা হয়। ঘটনার সময় তারা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানিয়েছে নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইয়াকুব অ্যান্ড ব্রাদার্স।
তবে এ অভিযোগের দায়ভার নেবেন না বলে জানিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত দুই দিন ধরে ছাত্রলীগের ১০-১২ জন নেতাকর্মী চাঁদা দাবি করে আসছেন। গত সোমবার রাতে নেতাকর্মীরা গিয়ে ১০ থেকে ১৫ শ্রমিককে মারধর করেন। পাশাপাশি সাইটে ভাঙচুরও করা হয়।
এ কাজ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মো. নঈম উল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের নামধারী কয়েকজন কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। টাকা না দিলে কাজ করতে দেবে না বলে হুমকিও দেন। সোমবার রাতে শ্রমিকদের মারধর করা হয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আর শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
