নাম ইশরাক তুর্য তবে অনেকেই এখন তাকে তোতা বলে ডাকে—যেটি তার অভিনীত একটি নাটকের জনপ্রিয় চরিত্র। মানুষ ছোট হলেও তার চিন্তাচেতনা অনেক বড়ো। অভিনয় থেকে অর্জিত অর্থের একাংশ সে আর্তমানবতার সেবায় দান করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কচি-কাঁচার আসরের পক্ষ থেকে তুর্যর সাক্ষাত্কার নিয়েছেন—জাজাফী
তুর্য, কেমন আছ? কচি-কাঁচার আসরের পক্ষ থেকে তোমাকে স্বাগতম।
তুয :ধন্যবাদ, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
অভিনয়ে কীভাবে এলে?
তুর্য : আমার মা একটি নাটকের কস্টিউম ডিজাইনার ছিলেন। সেই নাটকের সেটে থাকাকালীন ডিরেক্টর আঙ্কেল আমাকে পছন্দ করেন এবং তার পরবর্তী নাটকে আমাকে সুযোগ দেন। নাটকটির নাম ছিল ‘শহর থেকে দূরে’।
অভিনয় নাকি গান কোনটা বেশি প্রিয়?
তুর্য :গান আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি এ বছর ছায়ানটে সুযোগ পেয়েছি।
অভিনয় এবং পড়ালেখা দুটো একসঙ্গে কীভাবে ম্যানেজ করো?
তুর্য :লেখাপড়ার ক্ষতি যেন না হয় সে কারণে আমি আমার অবসর সময়টায় পড়াশোনা এগিয়ে রাখি। ফলে ক্ষতি হয় না।
অভিনেতা হওয়ার কারণে স্কুলে কি তুমি বেশি সুযোগ পাও?
তুর্য :শুটিংয়ের কারণে অনেক সময় ক্লাস মিস হয়, তবে সেগুলোর ব্যাপারে আমার টিচার এবং বন্ধুরা আমাকে সাহায্যে করে। আমাকে টিভিতে দেখেও আনন্দ পায়।
‘মেছো তোতা গেছো ভূত’ ধারাবাহিকে তুমি কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘তোতা’ হিসেবে অভিনয় করেছ। বন্ধুরা কি তোমাকে তুর্য না ডেকে তোতা বলে ডাকে?
তুর্য :বন্ধুরা ছাড়াও আমাকে এখন অনেকেই ‘তোতা’ বলে ডাকে।
বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রে তুমি কোন চরিত্রে অভিনয় করবে এবং কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছ?
তুর্য :আমি বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রে শেখ কামাল (৮-১২ বছর) চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হয়েছি। প্রস্তুতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর জীবনের ওপর কিছু বই পড়া শুরু করেছি এবং শেখ কামাল সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করছি।
সহশিল্পীদের মধ্যে কার অভিনয় তোমাকে বেশি মুগ্ধ করে এবং কার মতো অভিনেতা হতে চাও?
তুর্য :অনেকের অভিনয়ই আমাকে মুগ্ধ করে। তবে শহিদুজ্জামান সেলিম চাচ্চুর অভিনয় বেশি ভালো লাগে। ইচ্ছে করে অমিতাভ বচ্চনের মতো হতে।
অভিনয় থেকে যে টাকা পাওয়া যায়—এটা কি শুরু থেকেই জানতে?
তুর্য :জানতাম না। উল্টো আমি ভাবতাম টাকা দিয়ে অভিনয় করতে হয়। পরে যখন আমি দীপ্ত টিভির কাজ শুরু করি তখন আমার স্বাক্ষর লাগত পেমেন্ট তুলতে, তখন জেনেছি যে আমি সম্মানি পাই।
প্রথম অভিনয়ের জন্য কত টাকা পেয়েছিলে এবং কী করেছিলে?
তুর্য :৯ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। সে টাকা দিয়ে পরিবারের সবার জন্য উপহার কিনেছিলাম এবং এক হাজার টাকা একজন গরিব বাচ্চার চিকিত্সার জন্য দিয়েছিলাম। মজার ব্যাপার, মায়ের কাছে প্রথম সম্মানীর টাকার এক হাজার টাকা এখনো আলাদা রাখা আছে।
তুমি নাকি অভিনয় থেকে অর্জিত অর্থের একাংশ অসহায়দের জন্য ব্যয় করবে। এত অল্প বয়সে এই ভাবনাটা কীভাবে এল?
তুর্য :বাবার সাথে যখন বাইরে যেতাম তখন বাবা আমাকে দিয়ে খুব সামান্য হলেও অসহায় মানুষদের সাহায্য দিতেন এবং সেটাই মনের মধ্যে বেড়ে উঠেছে।
তোমার এই ভালো কাজে যুক্ত হতে অন্যদেরকে কী বলে উত্সাহিত করবে?
তুর্য :আমি যদি এ মহত্ কাজটি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে অনেকেই উপকৃত হবে। অন্যদেরকে বলব মানুষকে সাহায্য করতে বিত্তের প্রয়োজন নেই, ইচ্ছেটাই জরুরি।
তোমরা শিশুশিল্পীরা একটা গ্রুপ করেছ লিটল জুয়েলস অ্যান্ড অ্যাঞ্জেলস। গ্রুপের সবাই কি এই উদ্যোগে সাড়া দিয়েছে?
তুর্য :সবাই এখনো সাড়া দেয়নি, তবে আমার বিশ্বাস একটু একটু করে বাকিরাও এগিয়ে আসবে।
ছুটির দিনে অন্যরা যখন খেলতে যায় তুমি তখন শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকো। তোমার খেলতে ইচ্ছে করে না?
তুর্য :ছোটদের শুটিংয়ের সময়ও কিন্তু খেলার সুযোগ থাকে। শুটিংও একরকম খেলা মনে হয়। ওখানে অন্যান্য বাচ্চাদের সাথে খেলতে পারি তাই খুব একটা অসুবিধা হয় না।
ধন্যবাদ তোমাকে।
তুর্য : আপনাকেও ধন্যবাদ। ধন্যবাদ কচি-কাঁচার আসরের সকল বন্ধুদের।
