কোভিড ১৯-এর প্রতাপে বিপর্যস্ত জনজীবন। চেনা-জানা অনেকেই করোনার ভয়াল থাবায় আক্রান্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রায়শই প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে চরম অমানবিক সব ঘটনা। সব মিলিয়ে বাঁচার আকাঙ্ক্ষাই যেন এখন এক অধরা স্বপ্ন। হুহু করে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। মানসিক অস্থিরতা ও দৃঢ়তা যেন আজ সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ! সরকার, প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ নিরলস প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে—এ কথা যেমন সত্য, তেমনি এর মাঝেও রয়েছে সীমাহীন অব্যবস্থাপনা, নৈরাজ্য আর সমন্বয়হীনতা। যার ভুক্তভোগী জনসাধারণ। আক্রান্তদের মৃত্যুর পর প্রিয়জনরা অনেকেই দাফন ও শেষকৃত্যেও অংশ নিতে পারছে না বা নিচ্ছে না। পরীক্ষা করাতে গিয়েও অনেককে দালালের খপ্পরে পড়তে হচ্ছে। করোনা প্রতিরোধে যেসব উপকরণ এখন নিত্য প্রয়োজন সেসব পণ্যেও মূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশের একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এই মহামারির সময়েও ব্যবহূত মাস্ক ধুয়ে এবং নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার উত্পাদন করে বাজারজাতকরণের ঘৃণ্য প্রচেষ্টা চালায়। যখন এই অদৃশ্য ভাইরাসের হাত থেকে নিষ্কৃৃতি পাওয়ার জন্যে মানুষ পাগলের মতো ছুটছে, তখন কিছু ব্যবসায়ী এই দুঃসময়কে পুঁজি করে মানুষের জীবনকে বিপন্ন করার কাজে লিপ্ত। আমাদের কি বোধোদয় হবে না?
সুমিত বণিক
জনস্বাস্থ্যকর্মী, বান্দরবান
