বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোসহ ১৩ দফা ওয়ার্কার্স পার্টির

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ০০:৩৬

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে বর্তমান অবস্থায়  আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এটার পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। এছাড়া বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোসহ ১৩ দফা দাবি জানায় দলটি। সংসদে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গতকাল বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলা যেখানে প্রধান, জীবন যেখানে প্রধান, অর্থমন্ত্রী ১১ জুন পেশ করা বাজেটে জীবনকে উপেক্ষা করে অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভবিষ্যত্ রূপরেখা নিয়ে কথা বলেছেন। বাজেটে তার বিবেচ্য জীবন বা মানুষ ছিল না, ছিল প্রবৃদ্ধি! আর সে প্রবৃদ্ধির বর্তমান ও আগামী অর্থবছরের হিসাব দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। যখন বিশ্বে উদারনৈতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে মহা মন্দাবস্থার সূচনা হয়ে দেশের রপ্তানি আয় কমেছে, প্রবাসী শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে দেশে ফিরে আসছে, করোনার প্রাদুর্ভাবে অর্থনীতি প্রায় স্থবির সে অবস্থায় তিনি আগামী অর্থবছরে ৮.২ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। কিন্তু করোনা সংকটকালে প্রতিটি ক্ষেত্রে যে সংকট উপস্থিত তা নিরসনে বাজেটে কোনো পথনির্দেশ দিতে পারেননি।

ওয়ার্কার্স পার্টির ১৩ দফার মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ বাড়িয়ে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য খাতের সুনির্দিষ্ট ব্যয়ের জন্য রাখা। চিকিত্সক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ও লক-ডাউন এলাকায় আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিতসহ জনগণকে সহায়তা প্রদানের জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া; সার্বজনীন স্বাস্থ্যে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; করোনাকালে বেসরকারি চিকিত্সা প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সবার জন্য চিকিত্সা সহজলভ্য করা; গার্মেন্টসসহ শিল্প খাতে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, শিল্পক্ষেত্রে বরাদ্দ বৃদ্ধি, কৃষি উদ্বৃত্ত ফসল সরকার কর্তৃক কিনে নেওয়া; আগামী ছয় মাসের জন্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের পরিবার প্রতি বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চালসহ খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা সহায়তা প্রদান; সামাজিক নিরাপত্তাবলয় বৃদ্ধি এবং ৫ কোটি মানুষ বা ১.২৫ কোটি খানাকে রেশনের আওতায় আনা; ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নৌ-সড়ক পরিবহন কর্মী এবং সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের ঝুঁকিভাতা দেওয়া ইত্যাদি।

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। অনুষ্ঠানে পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, ড. সুশান্ত দাস, মাহমুদুল হাসান মানিক, নুর আহমেদ বকুল, হাজেরা সুলতানা, কামরুল আহসান, আমিনুল ইসলাম গোলাপ, অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ এমপি, জ্যোতি শংকর ঝন্টু, হাজি বশিরুল আলম, এনামুল হক এমরান, নজরুল ইসলাম হাক্কানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।