করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুলের দাবি শুধু স্বাস্থ্য খাতের সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতেই কাজ করছে সরকার। এ পর্যন্ত কখনোই করোনার সঠিক চিত্র তুলে ধরা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। সরকারি হিসেবে এরই মধ্যে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। সরকারের যথাযথ পরিকল্পনা না থাকায় দিন দিন বাড়ছে লাশের সারি। একইভাবে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। যদি পরীক্ষার সংখ্যা বাড়তো তবে কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো আক্রান্তের সংখ্যা, সেটি সহজেই অনুমান করা যায়। করোনার প্রকৃত তথ্যও গুম করছে এই সরকার। জনমনে ধারণা গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে যে মৃত ও আক্রান্তের সঠিক চিত্র লুকিয়ে রাখছে ক্ষমতাসীনরা। গতকাল বৃহস্পতিবার অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার তাদের বিভিন্ন গোঁজামিলের তথ্য গোপন করতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। গত ৮ মার্চ রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পক্ষ থেকে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের খবর দেওয়া হয়। এরপর কয়েকদিন সংবাদ সম্মেলন করা হলেও সাংবাদিকদের প্রশ্নে জর্জরিত হয়ে পরে তা সংবাদ বুলেটিনে রূপ নেয়। এখন শুধু করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুসহ কিছু তথ্য দেওয়া হয়, কিন্তু সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো সুযোগ নেই। এতেও স্পষ্ট, সরকার মনগড়া তথ্য প্রকাশ করেই শুধু পার পেতে চাচ্ছে। সরকারি হিসাবের সঙ্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর আকাশ-পাতাল তফাত। ঢাকা শহরের কিছু কবর স্থানে লাশ দাফনের এই বছরের চিত্র ও বিগত বছরের চিত্র তুলনা করলেই বুঝতে পারবেন। রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে ২০১৯ সালের মে মাসে ৭৭৭টি আর এ বছর মে মাসে দাফন করা হয়েছে ১০৩৪টি। আর চলতি জুনের প্রথম ১৫ দিনে লাশ দাফন করা হয়েছে ৫১৫টি। এর অধিকাংশ করোনা আক্রান্ত রোগীর লাশ। আজিমপুর কবরস্থানে লাশ দাফনের জায়গাও কমে যাচ্ছে। ফখরুল বলেন, ত্রাণ চুরির যে চিত্র দেশবাসী গণমাধ্যমে দেখেছে তাতে লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায় কিন্তু আওয়ামী লীগারদের যেন কিছুতেই চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি। তাদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান আক্ষেপ করে বলেছিলেন ”সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পেলাম চোরের খনি”। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সারাদেশে করোনা চিকিত্সার করুণ দশা ফুটে উঠেছে গণমাধ্যমে। খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী রাজধানী ছাড়া করোনা আক্রান্ত কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিসের কোনো ব্যবস্থা নেই। ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় আইসিইউ বেড আছে মাত্র সাতটি। কতজন রোগী এই মুহূর্তে আইসিইউ সেবা নিচ্ছেন তার তথ্য জনসম্মুখে দিচ্ছে না। অধিদপ্তর বলছে, সারাদেশে করোনার জন্য নির্ধারিত ১১০টি হাসপাতালে আইসিইউ বেড আছে ৩৩৯টি যদিও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগ বাদেই কমপক্ষে ৭২০টি আইসিইউ বেড থাকা জরুরি। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ৪৯টি জেলায় করোনার জন্য আইসিইউ সাপোর্ট নেই।
