বিবিসি ও রয়টার্স
ইউরোপে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ আবারও বেড়েছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ইউরোপ জুড়ে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় সংক্রমণ বাড়ছে।
ইউরোপে আর্মেনিয়া, সুইডেন, মলডোভা এবং নর্থ মেসিডোনিয়াসহ ১১টি দেশে গত কয়েক সপ্তাহে দ্রুত করোনা আক্রান্ত রোগী বেড়ে যাওয়ায়, ‘খুবই গুরুতরভাবে ভাইরাসটি’ ফিরে আসছে বলে জানিয়েছেন ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক হ্যান্স হেনরি ক্লুজ। তার কথায়, ভাইরাসের পুনরুত্থানের ঝুঁকি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি যে সতর্কবার্তা দিয়ে এসেছেন, তাই এখন ইউরোপ জুড়ে কয়েকটি দেশে বাস্তব রূপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না গেলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে চলে যেতে পারে বলে বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করেন তিনি।
ক্লুজ জানান, গত দুই সপ্তাহে নতুন করে ভাইরাস সংক্রমণ বেড়েছে ৩০টি দেশে। এর মধ্যে ১১টি দেশে ভাইরাস সংক্রমণ ঘটেছে দ্রুতহারে। এই ১১ দেশ হচ্ছে, আর্মেনিয়া, সুইডেন, মলডোভা, নর্থ মেসিডোনিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, আলবেনিয়া, বসনিয়া-হারজেগোভিনা, কিরগিজস্তান, ইউক্রেইন এবং কসোভো। ইউরোপে এখনো দৈনিক প্রায় ২০ হাজার মানুষের ভাইরাস সংক্রমণ ঘটছে এবং ৭০০-এর বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে বলেও ক্লুজ সতর্ক করেছেন।
গত কয়েক সপ্তাহে ইউরোপ জুড়ে দেশগুলোতে ব্যাপক আকারে কয়েকটি গুচ্ছ সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে জার্মানির নর্থরাইন ভেস্টফেলিয়া রাজ্যের একটি শহরের মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা থেকে ১ হজার ৫০০-এর বেশি কর্মীর ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের ওয়েলস এবং ইংল্যান্ডের মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা থেকেও গত সপ্তাহে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। ফ্রান্সেও ঘটেছে একই ঘটনা।
ইউরোপে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়ার পরই পোল্যান্ড, জার্মানি, স্পেনের মতো দেশগুলো খুব দ্রুতই আবার বিধিনিষেধ আরোপ করে তা ঠেকানোর ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্লুজ। দেশগুলোর এ পদক্ষেপ আশাব্যঞ্জক উল্লেখ করে তিনি আগামীতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমে আসার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন। ক্লুজ বলেন, ডব্লিউএইচওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, গ্রীষ্মের সময়টিতে বেশির ভাগ দেশেই পরিস্থিতি আরো কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে বসন্তের জন্য প্রস্তুতি রাখতে হবে। কারণ, তখন ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য রোগের সঙ্গে মিশে যাবে কোভিড-১৯।
