মো. জাহাঙ্গীর আলম
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে করোনা মহামারি মোকাবিলায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশের এই প্রেক্ষাপটে আমি ব্যক্তিগতভাবে সমুদ্র বিজ্ঞানের একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমার উপলব্ধি ও ভাবনাগুলো উপস্থাপন করছি। বারবার কেন জানি মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে সেই ১৯৭১ সাল থেকে সমুদ্র নিয়ে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে গবেষণা করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন বায়োলজি, মেরিন সায়েন্স, ওশেনোগ্রাফি ও মেরিন ফিশারিজের সমুদ্রবিজ্ঞানী, শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশে সমুদ্র নিয়ে গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন বায়োলজি ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ অনেক ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু এত গবেষণা ও সমুদ্র নিয়ে যারা পড়াশোনা করছেন, তাদের বিসিএসের মাধ্যমে স্বীকৃতি ও বাংলাদেশের ১৮টি উপকূলীয় জেলায় কাজ করবার উত্সাহ যোগাতে কি আমাদের এখনো সময় হয়নি? হাজার হাজার সমুদ্র বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী এবং সমুদ্র বিজ্ঞানীরা কি যথাযথ স্বীকৃতি ও কাজের সুযোগ পেয়েছেন, জাতীয় অর্থনীতিতে কাজ করার? দেশে এখন অণুজীব বিজ্ঞানী ও শিক্ষার্থীদের দেখা যাচ্ছে তাদের যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মানের ব্যাপারে তারা সোচ্চার হচ্ছেন। আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক প্রশাসন বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পাঠদান করানো হয়। কিন্তু তাদেরও বিসিএস (লোক প্রশাসন) স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি এখনো। এরকম অনেক বিষয় রয়েছে, যারা দেশের জন্য প্রতিনিয়ত অবদান রাখছেন কিন্তু তারা যথাযথ স্বীকৃতি কি পাচ্ছেন? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে Marine Fisheries, Oceanography, Environmental Science, Meteorology, Microbiology, Marine Ecosystem, Livelihood, Aquaculture, Nutrition, GPS & Geography-সহ সমুদ্র বিজ্ঞানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৪০টি বিষয়সহ বিভিন্ন গবেষণা ও বাস্তব জ্ঞানের মাধ্যমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বিসিএস মেরিন সায়েন্স/সমুদ্র বিজ্ঞান স্বীকৃতি পাওয়া কি সময়ে দাবি হতে পারে না? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞানের শিক্ষকবৃন্দ ও সমুদ্র বিজ্ঞানীগণ, শিক্ষার্থীদের যে জ্ঞান দান করেছেন ও গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে যে অবদান রাখছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এখনই উচিত সামষ্টিকভাবে এসব সমুদ্র বিজ্ঞানী ও বর্তমানে এই বিষয়ের সঙ্গে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে তাদের মাধ্যমে জাতীয় সমুদ্রনীতি তৈরি ও যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া। বাংলাদেশে সমুদ্র বিজ্ঞান গবেষণায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এখনই সময় বৈশ্বিক করোনা মহামারি মোকাবিলাসহ টেকসই বিশুদ্ধ বৈশ্বিক পরিবেশ নিয়ে যথাযথ গবেষণা করা। এজন্য বিসিএস (সমুদ্র বিজ্ঞান) ক্যাডার সৃষ্টি করলে আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত জয় অর্জন করতে পারব।
n লেখক :অতিরিক্ত উপকমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ
