করোনা চিকিত্সা নিয়ে লুকোচুরি!

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ২৩:১৯

করোনা রোগীর চিকিত্সা নিয়ে চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে লুকোচুরি বন্ধ হচ্ছে না। নানাভাবে তালবাহানা করে তারা করোনা রোগীদের ফেরত দিচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ১৯টি বেসরকারি হাসপাতালে মোট বেড রয়েছে ১ হাজার ৮৫৮টি। তার মধ্যে বেড খালি রয়েছে ৮৪৭টি। তাদের আইসিইউতে কোনো করোনা রোগী ভর্তি করেনি। তারা ৬৫ জন করোনী রোগী ভর্তি করেছে বলে তথ্যে উল্লেখ করেছে। সিট নাই বলে সরকারি ভাবে গঠিত কমিটি ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে হাসপাতালগুলোতে অভিযানও চালিয়েছে। তারপরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, নগরীর জিইসির মোড়ে অবস্থিত মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতালে বেড রয়েছে ১২৪টি। তার মধ্যে কোভিড রোগী চিকিত্সাধীন আছে মাত্র এক জন। ১০টি বেড খালি থাকলেও ছয় জন রোগীকে ভর্তি না করে ফেরত দেওয়া হয়েছে। আইসিইউ বেডে তিন জন রোগী রয়েছে। এই হাসপাতালের কাছেই রয়েল হাসপাতাল। এই হাসপাতালে ৪৫টি বেডের মধ্যে ৫টি আইসিইউ বেড রয়েছে। ১০টি বেড খালি রয়েছে। করোনা রোগী একজনও ভর্তি নেই। চিকিত্সক স্বল্পতায় আইসিইউ বেড খালি রয়েছে বলে তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সিএসটিসি হাসপাতালে ৩০টি বেড রয়েছে। ৩টি আইসিইউ বেডে রোগী ভর্তি রয়েছে। কোভিড রোগী আছে ২ জন। হাসপাতালে ৮টি বেড খালি রয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন হাসপাতালে ৭৫টি বেড রয়েছে। তাদের আইসিইউতে চারটি বেডে রোগী রয়েছে। চার জন কোভিড রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছে। সাতটি বেড   খালি রয়েছে। এই হাসপাতালে ২টি আইসিইউ বেড খালি। চিকিত্সক ও নার্স সংকট থাকায় আইসিইউ সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে তিন জন কোভিড রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছে। বিজিসি  ট্রাস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩০০ শয্যার মধ্যে ২৮৫ শয্যা খালি রয়েছে। তাদের কোভিড সাসপেক্ট রোগী আছে এক জন। আর সাধারণ রোগী চিকিত্সাধীন আছে ১৪ জন।

জানতে চাইলে স্বাচিপের চট্টগ্রামে কোভিড-বিষয়ক সমন্বয়ক ডা.আ ম ম  মিনহাজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা কোনো রোগীর চিকিত্সা দিচ্ছে না।  তারা আইসিইউ বেডে কোনো কোভিড রোগী ভর্তি করেনি। তালিকাভুক্ত ১২টি বেসরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে হাইকোর্টে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন যে রিপোর্ট দিয়েছেন তা মিথ্যা। ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল কোভিড পরীক্ষার জন্য রোগীদের কাছ থেকে ১০-১২ হাজার টাকা নিয়ে রিপোর্ট দিচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিত্সাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য ও সিভিল প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোস্তফা খালেদ আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, প্রশাসনের নানামুখী চাপের কারণে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর মোটামুটি চিকিত্সা হচ্ছে। সরকারি কমিটি প্রতিদিন হাসপাতালগুলোর চিকিত্সাধীন রোগীর তথ্য নিচ্ছে।