উত্তরের কয়েক জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ২৩:২৩

কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করায় জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। পানির নিচে তলিয়ে গেছে মৌসুমি ফসল ও সবজিখেত, বীজতলা। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এদিকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সিলেটের গোয়াইনঘাটের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলা সদরের সঙ্গে গোয়াইনঘাটের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দুই শতাধিক চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর ও রাজারহাট উপজেলার নদ-নদী তীরবর্তী নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার বিকালে ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপত্সীমার ১৩ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে পাট, ভুট্টাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল ও সবজিক্ষেত্গুলো। ইতিমধ্যে চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে বাড়িঘরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করায় এই ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়ে অন্তত ২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রামের       পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুরে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করেছে। আগামী কয়েক দিন এই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। কুড়িগ্রামের শহর রক্ষা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সাম্প্রতিক সময়ে সংস্কার করায় এবার ধরলার পানি শহরে প্রবেশ করতে পারবে না।

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর জানান, শুক্রবার সকাল ৮টায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপত্সীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র। টানা দুই দিনের বৃষ্টির ফলে তিস্তাসহ জেলার সব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে আমন ধানের বীজতলার পাশাপাশি বাদামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে বিভিন্ন পুকুরের মাছ বের হওয়ার ফলে মত্স্য চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৪০ মিলিমিটার।

তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট। চরাঞ্চলে ১০ হাজার পরিবার ইতিমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা।

এদিকে লালমনিরহাটের চার উপজেলায় দেখা দিয়েছে বন্যা। প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার বিভিন্ন নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনো বিপত্সীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার পাট, কাউনসহ বিভিন্ন ফসলের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। অপরদিকে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ঘরবাড়িতেও পানি উঠতে শুরু করেছে।

এদিকে প্রবল বর্ষণের কারণে ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমা ছুঁই ছুঁই করছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাটে বন্যা

জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

সিলেট অফিস ও দক্ষিণ সুরমা সংবাদদাতা জানান, মঙ্গলবার থেকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সীমান্ত এলাকা সিলেটের গোয়াইনঘাটের অনেক স্থান প্লাবিত হয়েছে। সিলেট জেলা শহরের সঙ্গে গোয়াইনঘাট উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢলের পানি জাফলং এলাকার পিয়াইন ও ডাউকি নদী দিয়ে এলাকায় ঢুকছে। এতে পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও, রুস্তমপুর, লেংগুড়া, তোয়াকুল, নন্দীরগাঁও ও পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের অনেক গ্রাম বন্যাকবলিত হয়।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুস সাকিব জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। তবে উপজেলা প্রশাসন সবকটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।