জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) অনলাইন সেবায় ব্যাপক সাড়া পেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘরে বসে অনলাইনে নিজেই নিজের এনআইডি প্রিন্ট করার সুযোগ পাচ্ছেন নাগরিকরা। এ পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ এনআইডি ডাউনলোড করেছেন নতুন ভোটাররা। নাগরিকরা অনলাইন থেকে নিজের এনআইডি প্রিন্ট করে নেওয়ায় খরচ সাশ্রয় হয়েছে ইসির। কেননা একটি লেমিনেটিং করা এনআইডি প্রিন্ট করে নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে ১০ টাকার মতো ব্যয় হয়। শুধু অনলাইনে সেবা চালুর ফলে এ পর্যন্ত ৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে (এনআইডি উইং) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সেবার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আর সে ভাবনা থেকেই নাগরিকের দোরগোড়ায় নয়, অনলাইনের মাধ্যমে হাতের মুঠোয় সেবা পৌঁছে দিয়েছি। অনলাইনে এনআইডি সেবা কার্যক্রম চালুর ফলে আমাদের ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এছাড়া সময়ও বেঁচে যাচ্ছে। সেবাগ্রহীতাদেরও সময় এবং অর্থের অপচয় কমছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভয়াবহ করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে সরাসরি সেবা প্রদানের পরিবর্তে অনলাইনে এনআইডি সেবা অব্যাহত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। এতে যারা এনআইডি পাননি, তারা নিজেরাই ইসির ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ডাউনলোড করে নিতে পারছেন। এছাড়াও নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন, ঠিকানা পরিবর্তন ও এনআইডি উত্তোলন সংক্রান্ত সেবার আবেদনও জমা দেওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। অনলাইনে এনআইডি সংক্রান্ত সেবা কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএমএস) সফটওয়্যার করা হয়েছে। সিএমএস এর ওপর তিন সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষে করেছে ইসি। অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির তথ্য সংযোজন-বিয়োজন, যাচাই-বাছাই, ভোটার হিসেবে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদন, সংশোধন, হারিয়ে যাওয়া কার্ড উত্তোলন ও ব্যক্তির ঠিকানা পরিবর্তন যে নতুন সফটওয়ারের মাধ্যমে করা হয়, সেটাই কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএমএস) সফটওয়্যার। ঘরে বসেই এনআইডি সংক্রান্ত সেবা মিলবে স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে। এখন থেকে নাগরিকদের নির্বাচন অফিসে আসাও লাগছে না। দেশব্যাপী সেবার পরিধি বিস্তৃত করতে জুম অ্যাপের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের অনলাইন প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। এনআইডি অনুবিভাগের কমিউনিকেশন শাখার অফিসার ইনচার্জ স্কোয়াড্রন লিডার কাজী আশিকুজ্জামান জানান, আগে জাতীয় পরিচয়পত্রের যে কোনো ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে নির্বাচন অফিসে আসার বাধ্যবাধকতা ছিল। অনলাইন পদ্ধতি চালু হওয়ার ফলে একজন নাগরিক বাড়িতে বসেই নিজের ব্যবহূত কম্পিউটার অথবা স্মার্টফোন ব্যবহার করে নতুন ভোটার হওয়া থেকে শুরু করে যে কোনো প্রকার সংশোধনী ও হারানো কার্ডের আবেদন পূর্বক, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুরূপ কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। এর ফলে করোনার এই দুর্যোগে যেমন সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হবে, তেমনি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সরকারি-বেসরকারি নানা সেবা নিতে পারবে একজন নাগরিক। গত ২৬ এপ্রিল অনলাইনে এনআইডি সেবার উদ্বোধন করা হয়। এক্ষেত্রে ১০৫ নম্বরে এসএমএস পাঠানোর মাধ্যমে নিজ এনআইডি নম্বর জানা যাচ্ছে। আবার ইন্টারনেট লিংকে (https://services.nidw.gov.bd) লগইনের মাধ্যমে নিজ এনআইডি নম্বর জানা ও অনলাইন কপি পাচ্ছেন। এই এনআইডি দেখতে হুবহু লেমিনেটিং করা এনআইডির মতো। এটি ডাউনলোডের পর প্রিন্ট করে কেবল লেমিনেটিং করে নিলেই হবে। বর্তমানে ইসির সার্ভারে ১১ কোটি ভোটারের তথ্য আছে। এদের প্রথমে এনআইডি সরবরাহ করে পরবর্তী স্মার্টকার্ড দিচ্ছে ইসি। যারা এখন লেমিনেটিং করা কার্ড নিচ্ছেন বা নিজে এনআইডি নিজেই ডাউনলোড করে নিচ্ছেন, তারাও পরবর্তীতে স্মার্টকার্ড পাবেন। বর্তমানে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি ইসিকে স্মার্টকার্ড তৈরিতে সহায়তা করছে। উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ হালনাগাদ ভোটার তালিকায় যুক্ত হন ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার নতুন ভোটার। মূলত তাদের কথা মাথায় রেখেই সেবাটি চালু করে নির্বাচন কমিশন।
